— প্রতীকী চিত্র।
প্রায় সাড়ে ১৫ বিঘা জমি। তা নিয়েই বিবাদ। জমির মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই চলল চার প্রজন্ম ধরে। সাত দশক ধরে চলে আসা সেই জমিজটের অবশেষে নিষ্পত্তি হল সুপ্রিম কোর্টে।
সম্প্রতি ওই জমিজট মামলার রায় দেয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ। যে সময়ের জমির দলিল ঘিরে এই বিবাদ, তখনও দুই বিচারপতির কারও জন্মও হয়নি। এ বার সেই জমি বিবাদের নিষ্পত্তি করল শীর্ষ আদালত। রায় দিল,প্রায় ৭০ বছর আগের ওই দলিল বৈধই।
উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার নরসিপুর কালান গ্রামে সাড়ে ১৫ বিঘা কৃষিজমি ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। ওই জমির দলিলের বৈধতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নিম্ন আদালত এবং উত্তরাখণ্ড হাই কোর্ট ওই জমির দলিলকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছিল। ওই রায়ের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন শরাফত আলি। তাঁর পূর্বপুরুষেরা ১৯৫৭ সালের ৪ জুন রেজিস্টার্ড বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে ওই জমি কিনেছিলেন। শরাফতের ওই পূর্বপুরুষেরা তখন নাবালক ছিলেন।
আবেদনকারীর বক্তব্য, জমিটি কেনার পর থেকে তাঁর পরিবারই সেটি ব্যবহার করছিল। তার পরে বিক্রেতাদের মধ্যে একজন নিজের আপত্তি প্রত্যাহার করে নিলে ১৯৮৪ সালে ওই জমি তাঁদের পরিবারের নামে করিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৯৯ সালে সংশ্লিষ্ট ‘ল্যান্ড কনসলিডেশন অফিসার’ দাবি করেন, ওই জমির দলিল ‘যথাযথ ভাবে’ প্রমাণিত নয়। ওই দলিল বাতিল বলে জানিয়ে দেন তিনি। পরে ২০১৭ সালে উত্তরাখণ্ড হাই কোর্টও সেই একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তবে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিল, ওই দলিল বৈধ।
শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, সামান্য কিছু অসঙ্গতির কারণে একটি রেজিস্টার্ড দলিলকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা ঠিক হয়নি। দলিলটি যে জাল ছিল বা প্রতারণা করে নেওয়া হয়েছে, এমন কোনও অভিযোগও অপর পক্ষ কখনও করেনি। সব দিক বিবেচনা করে ওই দলিলকে বৈধ বলে রায় দিয়েছে আদালত।