মালদহে জানালেন মমতা

আম রফতানি নিয়ে চিঠি বাংলাদেশকে

মালদহের আম সে দেশে রফতানির জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি লেখা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মালদহের দুর্গাকিঙ্কর ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক শুরুর আগে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০১৫ ০২:৩০
Share:

মালদহে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

মালদহের আম সে দেশে রফতানির জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি লেখা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মালদহের দুর্গাকিঙ্কর ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক শুরুর আগে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আম রফতানি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি লেখা হয়েছে। এটা দুই দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে আলোচনা করে লাভ হবে না। চাষিরা আম বিক্রি করতে পারলে আমরা খুশি হব।’’ এর পরে জেলায় অপুষ্ট শিশুদের জন্য ভালো কাজ হয়েছে বলে প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘জেলার দশ হাজার অপুষ্ষ্ট শিশুদের পুষ্টি যুক্ত খাবার বিলি করেছে। তাদের নাম, পরিচয় নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছে। সেই বই তে ওই শিশুদের সম্বন্ধে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। খুব ভালো কাজ হয়েছে।’’ একই সঙ্গে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর অফিস (সিএমও) এবং ব্লক পর্যায়ের অফিসারদের (বিডিও) দের নিয়ে বৈঠক নজিরবিহীন। তাঁর দাবি, ‘‘আমরা এই বৈঠক বছর বছর চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে দশ জেলায় আমাদের বৈঠক হয়ে গিয়েছে। জুন-জুলাই এর মধ্যে বাকি জেলাগুলিতে হবে।’’

Advertisement

বাংলাদেশে মালদহের আম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চিঠি দেওয়ার খবরে খুশি জেলার আম ব্যবসায়ী ও চাষিরা। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, চার বছর ধরে বাংলাদেশে আম রফতানি বন্ধ। কারণ বাংলাদেশ সরকার আগের প্রতি কর দ্বিগুণ বাড়িয়েছে। আগে বাংলাদেশের মুদ্রায় কেজি প্রতি আমের জন্য কর লাগত সাত টাকা। চলতি বছর কেজি প্রতি আমের জন্য গুনতে হবে ৩৬ টাকা। তাই ওপার বাংলায় আম রফতানি বন্ধ রয়েছে। উদ্যান পালন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের এবার প্রায় দশ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে। তার মধ্যে মালদহে রয়েছে পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন। বিপুল পরিমানে আম উৎপাদন হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে জেলার আম চাষিদের।

বাগান থেকে চাষিদের লক্ষ ভোগ বিক্রি করতে হচ্ছে তিন থেকে চার টাকা দরে। হিমসাগার ৭ থেকে ৮ টাকা, ল্যাংড়া ৬ থেকে ৭ টাকা দরে। লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে চাষিদের। তাই জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আম রফতানির দিকে তাকিয়ে ছিল। জেলার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী আম রফতানি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করায় আমরা খুব খুশি। কারণ, বাংলাদেশে আম রফতানি না হলে চাষি এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। ’’

Advertisement

এ দিন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ট্রেনে মালদহে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি সরাসরি যোগদেন মালদহের দুর্গাকিঙ্কর সদনের প্রশাসনিক বৈঠকে। তার আগে জেলাতে ২০টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। এদিন, উদ্বোধন করা হয়েছে ইংরেজবাজারের সংখ্যালঘু ভবন, চাঁচল ও হবিবপুরে কৃষক বাজার, হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতাল, ইংরেজবাজারের সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাস, ছাত্রদের আবাস সহ বিভিন্ন প্রকল্পের। সাড়ে সাতটা থেকে প্রায় ঘন্টা দেড়েক ধরে চলে এই বৈঠক।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে ১০০ দিনের কাজ,সবার ঘরে আলো প্রকল্প, কন্যাশ্রী প্রকল্প সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলে। কন্যাশী প্রকল্প নিয়ে জেলার প্রশংসা করলেও ইন্দ্রিরা আবাস যোজনা প্রকল্প নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন জেলার দুই মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, সাবিত্রী মিত্র, জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ কর্মাধ্যক্ষ-সহ জেলা ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকেরা। এছাড়া বিভিন্ন দফতরের প্রায় ৪০ জন আধিকারিক বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী রায়গজ্ঞ রওনা হন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement