—প্রতীকী চিত্র।
মামলায় জিতে স্কুলের গ্রুপ-ডি পদের চাকরিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ পেয়েছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু সেই নির্দেশ পালন করেনি রাজ্য সরকার। নির্দেশ পালন না করায় আদালত অবমাননার মামলা করেন তিনি। ২০১৮ সালের সেই লড়াই শেষ হতে হতে পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় আট বছর। অবসরের বয়সের চার বছর আগে যোগ দিতে পেরেছেন কামাক্ষ্যানারায়ণ পাণ্ডে নামে ওই মামলাকারী। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টে এসে মামলাকারীকে নিয়োগপত্র দিয়েছেন পুরুলিয়ার জেলা স্কুল পরিদর্শক (ডিআই)।
কামাক্ষ্যার আইনজীবী এক্রামুল বারি বলেন, ‘‘মামলার জটে এত বছর কেটে গিয়েছে। চার বছর পরে অবসর নেবেন কামাক্ষ্যা।’’ কোর্টের খবর, মামলার জটে চাকরি পেতে দেরি হওয়ায় কামাক্ষ্যা সিনিয়রিটি এবং সেই অনুযায়ী বেতনক্রম পাবেন কি না, তা এখনও আদালতের বিচারাধীন।
কোর্টের খবর, গত দশকের গোড়ায় স্কুলে গ্রুপ-ডি পদে চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল কামাক্ষ্যার। কিন্তু প্যানেলগত জটিলতায় সেই চাকরি পাননি তিনি। তারপরেই হাই কোর্টে মামলা করেন কামাক্ষ্যা। ২০১৮ সালে বিচারপতি শেখর ববি শরাফ কামাক্ষ্যাকে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ পালন করেনি সরকার। তার পরেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার শুনানি শেষ হতে হতে আট বছর পেরিয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি বিচারপতি অপূর্ব সিংহরায় আদালত অবমাননার রুল জারি করায় জেলা স্কুল পরিদর্শক এসে নিয়োগপত্র হাতে তুলে দেন। তিনি জানান যে এর আগের ডিআই-রা নির্দেশ পালন করেননি।
কামাক্ষ্যার এই ঘটনা অবশ্য বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই বলছেন, অবসরের চার বছর আগে চাকরি পাওয়ার জন্য একজন চাকরিপ্রার্থী কি বসে থাকবেন? বহু ক্ষেত্রেই কি তিনি এই ধরনের মামলা চালাতে উৎসাহী হবেন? প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের রায়ে সিনিয়রিটি এবং সেই অনুযায়ী বেতন পেলেও সেই কর্মীর আর্থিক লাভ হবে ঠিকই। কিন্তু তাঁকে দিয়ে এত দিন কাজ না-করিয়েও যদি বেতন দিতে হয় তা হলে সরকারি কোষাগারের যে ক্ষতি হল, তা পূরণ করবে কে?
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে