বৃষ্টি আর বিয়ে, আগুন সব্জির দর সিউড়ি বাজারে। —নিজস্ব চিত্র।
বাঁকুড়া
ওন্দা ব্লকের শিরসাড়া এলাকার চাষি বরেন মল্লিক কুঁদরি ও করলা চাষ করেছেন। জমি জুড়ে জল থৈথৈ। পাশের জমিতে ঢেঁড়শ চাষ করেছেন বাণেশ্বর মাঝি। একই অবস্থা তাঁর জমিরও। বরেনবাবু, বাণেশ্বরবাবুরা বলেন, “সব্জি বাঁচানো যাচ্ছে না। বৃষ্টির জেরে ফুল এসেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’’ ওন্দার ভূতশহরের চাষি তপন পাত্র বলেন, “যে জমিতে দু-তিন টন পটল ফলত, সেখানে ফলছে ১৫ কিলো।’’
ফলে বাজারে অনেকটাই দাম বেড়ে গিয়েছে খরিফ সব্জির। পটল, করলা, ঝিঙ্গে, কুমড়ো, কুঁদরির দাম দিন তিনেক আগে যা ছিল, এখন তা থেকে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। শনিবার বাঁকুড়ার চক বাজারে পটল ২৫, করলা ৪০, ঝিঙ্গে ৩২, বেগুন ৩৫, কুঁদরি ২০, কুমড়ো ১২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
পুরুলিয়া
পুরুলিয়া শহর, আদ্রা রেলশহর, রঘুনাথপুর, ঝালদা, কাশীপুর বা মানবাজার, বলরামপুর থেকে সাঁতুড়ি, সবর্ত্রই সব্জির দাম শুনে চমকে উঠছেন বাসিন্দারা। দু-তিনদিনেই দাম কতটা লাফিয়ে বেড়েছে তা মালুম হয়েছে বাজারে। ক্রেতারা জানিয়েছেন যে বেগুনের দর ছিল কেজি প্রতি ২৪-৩০ টাকা, সেই বেগুন এদিন বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। বরবটির দাম দিন তিনেক আগেও ছিল ২০-২৪ টাকা, এখন ৪০ টাকা। দাম বেড়েছে করলা, লাউ, বাঁধাকপি, ঢ্যাঁড়স, কুঁদরিরও। ক্রেতাদের প্রশ্ন, যে সব্জিগুলি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়নি সেগুলির দাম চড়ছে কেন?
তার খানিকটা ব্যাখ্যা মিলছে পাইকারি আর খুচরো বাজারের দরের তফাতে। পাইকারি বাজারে টম্যাটো শনিবার বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা কেজি দরে। খুচরো বাজারে তা-ই ৪৮ টাকা। ঝিঙের দর পাইকারি বাজারে ১৮ টাকা, খুচরো বাজারে ঝিঙে বিক্রি হয়েছে ৩২ টাকায়। ফলে আগুন বাজারের সবটাই জলের জন্য কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর
মেদিনীপুরেও সব্জির বাজারে গিয়ে মাথায় হাত পড়ছে মধ্যবিত্তদের। পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা, পটল ২৫-৩০ টাকা, বেগুন ৩৫-৪০ টাকা, পেঁপে ১৮-২০ টাকা, উচ্ছে ২৮-৩০ টাকা, কুঁদরি ১৬-২০ টাকা। মেদিনীপুরের কোতোয়ালি বাজার, স্কুলবাজার, গেটবাজার, রাজাবাজার প্রভৃতি এলাকায় শাক-সব্জির ব্যবসা হয়। শহরের বাসিন্দা আশিস মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “সব্জির দাম উর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অনেকেরই সমস্যা হবে।” ব্যবসায়ীদের অনেকের আশঙ্কা, ফড়েদের দাপটে খুচরো বাজারে সব্জির দাম আরও বাড়তে পারে। জেলার কৃষি কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষের আশ্বাস, “সব্জির দাম খতিয়ে দেখতে বাজারে নজরদারি শুরু হবে।”
পূর্ব মেদিনীপুর
তমলুকে সব্জির বাজার দর– আলু – চন্দ্রমুখী-১৫ টাকা, জ্যোতি- ১০ টাকা, পেঁয়াজ -৪০ টাকা, পটল-৪০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, বেগুন-৫০-৬০ টাকা, চিচিঙ্গা- ২৫ টাকা, উচ্ছে – ৩০ টাকা, করলা– ৩০ টাকা, কুমড়ো- ২০ টাকা, সজনে ডাটা- ৮০ টাকা, বাঁধা কপি- ৪০, ঢ্যাঁড়শ- ৪০, বরবটি- ৪০ টাকা, কাঁচা আম- ৮০ টাকা, পুঁইশাক – ১৬ টাকা, কাঁচালঙ্কা- ১০০ টাকা ।
হুগলি
আরামবাগ পুরাতন বাজারে শনিবার সকালেও পেঁয়াজের দাম ছিল ২৪ টাকা কেজি। বিকেলে সেটা বেড়ে হয় ৩৫ টাকা কেজি। পান্ডুয়া পাঁচঘরা বাজারে দু’দিন আগে চন্দ্রমুখী আলু বিকিয়েছে ১৬ টাকা কেজিতে। এখন দাম ২২ টাকা। স্থানীয় সব্জি বিক্রেতা অসিত মোদক বলেন, ‘‘আচমকা দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা কম পরিমাণে সব্জি কিনছেন। ফলে বেশিরভাগ সব্জি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকছে। আমরা লোকসানে পড়ছি।’’ পোলবার চাষি প্রণব সামন্ত বলেন, ‘‘এই বর্ষার জন্য বাজারে ফসলের দাম অনেকটা বাড়তে পারে।’’
হাওড়া
উলুবেড়িয়া বাজারে বৃষ্টির জন্য সব্জি আমদানি কমেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ধূলোগোড়ের পাইকারি বাজারে প্রায় সব সব্জিতেই পাল্লা পিছু ৩০-৫০ টাকা দাম বেড়েছে (১ পাল্লা-৫ কেজি)। ফলে প্রভাব পড়ছে খুচরো বাজারে। উলুবেড়িয়া বাজারের সব্জি বিক্রেতা চাঁপা প্রামাণিক বলেন, ‘‘দিন কয়েক আগেও ২০-২৫ টাকা কেজি দরে পটল বিক্রি করেছি। এখন তার দাম হয়েছে কেজি প্রতি ৪০ টাকা।’’ বাগনান বাজারে দিন দুয়েক আগেও একটি ফুলকপি বিকিয়েছে ৪০ টাকা দরে। শনিবার তা বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। সজনেডাঁটা ছিল ৬০ টাকা কেজি থেকে ১০০ টাকা কেজি। একই ভাবে দাম বেড়েছে আমতা, আন্দুল, ডোমজুড়, ঝাঁপড়দহ, মাকড়দহ-সহ জেলার অন্যান্য বড়ো খুচরো সব্জি বাজারগুলিতে।
বর্ধমান
জেলায় সব থেকে বেশি সব্জির চাষ হয় কালনা মহকুমায়। শনিবার বাজারে কালনার পাইকারি বাজারগুলিতে ঘুরে দেখা গেল, সব্জির জোগান অর্ধেকেরও কম, মানও নিচু। ব্যবসায়ীদের দাবি, দিন পনেরো ধরে সব্জির জোগান কমছে, সপ্তাহখানেক ধরে ভাল সব্জি মিলছেই না।
এদিন খুচরো বাজারে বেগুন ৪৫ টাকা, পটল ৩৫ টাকা, কচু ২৫ টাকা, বিট-গাজর ৪০ টাকা, ক্যাপসিকাম ৮০ টাকা, পেঁপে ১৬ টাকা, বিনস ১০০ টাকা, বাঁধাকপি ৩৫ টাকা, সজনে ডাটা ৯০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। সুখসাগর পেঁয়াজ বিকিয়েছে ৪০-৪৫ টাকা দরে।