WB Elections 2026

পাশে নেই দল, অভিমানী বক্তারের স্ত্রী

ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন আনিশাও। বছর কয়েক হল বক্তার হৃদ্‌রোগে মারা গিয়েছেন। ছেলেমেয়েদের সঙ্গে থাকেন আনিশা।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৬
Share:

প্রয়াত বক্তার মণ্ডলের স্ত্রী আনিশা। নিজস্ব চিত্র ।

ছোট আঙারিয়া থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে আয়মা দামোদরপুর। সেখানে বুথ ছিল ছোটো আঙারিয়াবাসীর। বৃহস্পতিবার রোদ চড়া হওয়ার আগেই ভোট দিয়েছেন আনিশা মণ্ডল। বাড়ির দাওয়ায় বসে অভিমানী প্রৌঢ়া বললেন, ‘‘দিদিকে ভালবাসি। দিদিকেই ভোট দিই। কিন্তু আমার মতো আদি সমর্থককেই দিদির দলের নেতারা দেখে না।’’

ছোট আঙারিয়া-কাণ্ডের মূল সাক্ষী বক্তার মণ্ডলের স্ত্রী আনিশা। ২০০১ সালে ৪ জানুয়ারি পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার এই গ্রামে বক্তারের বাড়িতে পাঁচ তৃণমূল সমর্থককে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল সিপিএমের ‘হার্মাদ’ (দুষ্কৃতী) বাহিনীর বিরুদ্ধে। তার মূল সাক্ষী ছিলেন বক্তার। ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন আনিশাও। বছর কয়েক হল বক্তার হৃদ্‌রোগে মারা গিয়েছেন। ছেলেমেয়েদের সঙ্গে থাকেন আনিশা। পুড়ে যাওয়া সেই বাড়ি এখন আর নেই। পাশে একতলা অসমাপ্ত বাড়ি আনিশার ঠিকানা।

তিনি বলেন, ‘‘আমার যে এখন এই অবস্থা, তা দিদি জানেন না। দিদির প্রতি অভিমান নেই। কিন্তু দলের প্রতি আছে।’’ গ্রামে ঢোকার রাস্তায় শহিদ বেদিতে ঘটা করে ছোট আঙারিয়া দিবস পালন হয়। আনিশার আক্ষেপ, যাদের বাড়িতে ঘটনাটা ঘটল, তারাই উপেক্ষতই রয়ে গেল। স্মৃতির ঝাঁপি খুলে আনিশা বলেন, ‘‘ঘটনার পরদিন আমরা পালিয়েছিলাম। কোলের ছেলেটাকে নিয়ে বড় আঙারিয়ার জঙ্গল বরাবর মাইলের পর মাইল হেঁটে গিয়েছি একা। রাস্তা চিনি না। কাউকে জিজ্ঞাসা করতেও ভরসা হচ্ছিল না। সারা দিন হেঁটে গড়বেতায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে আশ্রয় নিই।’’

আনিশা জানালেন, ‘‘স্বামী মারা যাওয়ার পরে রোজকার খাবার জোটাতে লড়তে হয়। একতলা বাড়ি করতে গিয়েই সব পুঁজি শেষ। যে দলকে এতটা ভরসা করতাম, তারা এই দুর্দিনে কোথায় আমার পাশে?’’ জুড়লেন, ‘‘দিদির সঙ্গে দেখা করে অভাব-অভিযোগ বলব ভেবেছিলাম। সুযোগ পাইনি।’’ যদিও গড়বেতার বিদায়ী বিধায়ক, তথা এ বারও তৃণমূলের প্রার্থী উত্তরা সিংহ হাজরার দাবি, ‘‘আমরা সবসময় ওই পরিবারের পাশে আছি। বক্তার মারা যাওয়ার পরেও স্থানীয় নেতারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।’’

আনিশার এখনও অভিযোগ, ‘‘সে দিন ঘটনা ঘটিয়েছে সিপিএমের হার্মাদ বাহিনী, নেতৃত্বে ছিলেন তপন ঘোষ এবং সুকুর আলি।’’ সিবিআই তদন্তে অবশ্য তপন-সুকুর বেকসুর হয়েছেন। তপন এ বার গড়বেতা বিধানসভায় সিপিএমের প্রার্থী। সব অভিযোগ উড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘ওই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন