মনোনয়ন তোলাতে বোমাবাজি তৃণমূলের

সেসময় বাড়িতে ছিলেন না ভোলানাথ। প্রার্থীকে না পেয়ে তাঁর বাবা গোবর্ধন ভট্টাচার্য ও মা দীপালি ভট্টাচার্যের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৮ ০২:৪৯
Share:

জেলা পরিষদে এবিপি আনন্দ-সি ভোটার জনমত সমীক্ষা (জনমত সমীক্ষার সঙ্গে প্রকৃত ফলাফলের সাযুজ্য না-ও থাকতে পারে)

শাসক-বিরোধী অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের পালা চলছে।

Advertisement

বিজেপির অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে সবংয়ের দণ্ডরা গ্রাম পঞ্চায়েতে কলসবাড় গ্রামে তাদের প্রার্থী ভোলানাথ ভট্টাচার্যের বাড়িতে তৃণমূলের কর্মীরা চড়াও হয়। সেসময় বাড়িতে ছিলেন না ভোলানাথ। প্রার্থীকে না পেয়ে তাঁর বাবা গোবর্ধন ভট্টাচার্য ও মা দীপালি ভট্টাচার্যের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, বাড়ির সামনে বোমাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ। বছর পঁয়ষট্টির গোবর্ধন ভট্টাচার্য বলেন, “ছেলে বাড়িতে ছিল না। তৃণমূলের লোকেরা বাড়ির সামনে বোমা ফাটাতে থাকে। তার পরে বাড়িতে ঢুকে স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে মারধর করা হয়। ছেলে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়বে বলে শাসিয়ে গিয়েছে।” বুধবার সকালে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান গোবর্ধনবাবু। বিজেপির সবং পশ্চিম মণ্ডলের সভাপতি শ্যামল হাইত বলেন, “প্রতিটি এলাকায় প্রার্থীর উপরে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তৃণমূল বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু প্রার্থীর পরিবারের উপর হামলা বরদাস্ত করব না।” যদিও এই হামলার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি শেখ আজাদ।

সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে পিংলাতেও। মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে ফেরার সময় লালপুকুরের কাছে বিজেপির পিংলার সাধারণ সম্পাদক প্রত্যুষ হরকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রত্যুষ বলেন, ‘‘সোমবার প্রার্থী নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময় আমরা জখম হয়েছিলাম। মঙ্গলবার হাসপাতাল ফেরার সময় তৃণমূলের কর্মীরা হুমকি দেয়, প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে খুন করা হবে।’’ যদিও তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শেখ সবরাতির কথায়, “লালপুকুরের কাছে বিজেপির লোকেরা বনভোজন করছিল। সেই সময় ওরা আমাদের নেত্রীর নামে কুরুচিকর মন্তব্য করছিল। সেখানেই প্রত্যুষবাবু ছিলেন। এখন উল্টো অভিযোগ তুলছে।” থানায় অভিযোগ করেনি বিজেপি। প্রত্যুষবাবুর কথায়, ‘‘থানা ও ব্লক অফিসের কাছেই তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়। সেখানে গেলে প্রাণে বেঁচে ফিরব না।” এ নিয়ে পিংলার রিটার্নিং অফিসার শঙ্খ ঘটক বলেন, “অভিযোগ থাকলে কেউ ই-মেলেও জানাতে পারেন। তবে পুলিশ যাতে এই এলাকায় নজরদারি চালায় সেই বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলব।”

Advertisement

কেশিয়াড়ির নছিপুরের আমলাসাইতে মঙ্গলবার এক বিজেপি কর্মীকে মারধরে অভিযুক্ত হয়েছে তৃণমূল। অভিযোগ, সাইকেলে আমলাসাইতে বাড়ি ফেরার পথে বিজেপি প্রার্থী তাপস ধাউড়িয়াকে আটকে মারধর করা হয়। প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে আহত তাপসকে কেশিয়াড়ি হাসপাতালে ভর্তি করায়। তাপসের বক্তব্য, ‘‘বিজেপি করি বলেই আমাকে মারধর করা হয়েছে। প্রথমে মাথায় কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়। তারপর চলে উপর্যুপরি মার।’’ বিজেপি নেতা বিনোদবিহারী মুর্মুর কথায়, ‘‘পরিকল্পনামাফিক এই কাজ করা হয়েছে। এলাকায় ভয় ও সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছে তৃণমূল।’’ তবে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জগদীশ দাস বলেন, ‘‘সিপিএম-বিজেপি এক হয়ে তৃণমূলকে হারাতে চাইছে। এটা ওদের সাজানো ঘটনা।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement