coronavirus

পরিযায়ীদের গ্রামে ঢুকতে বাধা, আহত ২

পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে যায় যে, বিক্ষোভ চলাকালীন মারধরে দু’জনের মাথাও ফেটেছে। পটাশপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দু’জনকে আটও করে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২০ ০১:২৬
Share:

ফাইল চিত্র

পরিযায়ী শ্রমিকদের নিভৃতবাসে (কোয়রান্টিনে) থাকা নিয়ে সমস্যা শুরু জেলার বিভিন্ন এলাকায়। কোথাও শ্রমিকদের সরকারি নিভৃতবাস কেন্দ্রে রাখার দাবিতে বিক্ষোভ-মারামারি হচ্ছে। তো কোথাও শ্রমিকেরা নিজেরাই সরকারি নিভৃতবাস কেন্দ্রে থাকতে চাইছেন না।

Advertisement

ভিন্ রাজ্য ফেরতদের সরকারি নিভৃতবাস কেন্দ্রে পাঠানো হোক— এই দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের আটকে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসী। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে যায় যে, বিক্ষোভ চলাকালীন মারধরে দু’জনের মাথাও ফেটেছে। পটাশপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দু’জনকে আটও করে।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রের খবর, তামিলনাড়ুতে কাজ করা পাঁচজন পরিযায়ী শ্রমিক বৃহস্পতিবার ট্রেনে খড়্গপুর হয়ে পটাশপুর-১ ব্লকের পালপাড়া গ্রামে পৌঁছন। তাঁদের দাবি, খড়্গপুরে তাঁদের প্রাথমিক ভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরে রাত ৯টার দিকে বাড়ি পৌঁছন তাঁরা। অভিযোগ, মধ্যম পালপাড়া গ্রামে ঢোকার মুখে ওই পাঁচ জনকে আটকায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশ। ওই গ্রামবাসী দাবি করেন, সরকারি নিভৃতবাসে ১৪ দিন কাটানোর পরেই শ্রমিকদের গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে। এ নিয়ে শুরু হয় বচসা।

Advertisement

ওই সময় স্থানীয়দের আর একটি দল বাধা দেওয়া গ্রামবাসীদের দাবির বিরোধিতা করে। তাঁদের বক্তব্য, ওই পাঁচজনের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কিছু পাওয়া যায়ানি এবং সরকারের তরফেও তাঁদের বাড়িতেই নিভৃতবাসে থাকতে বলা হয়েছে। তাই ওই শ্রমিকদের গ্রামে ঢুকতে দিতে হবে। এর পরেই গ্রামীবাসীদের দু’টি দলের মধ্যে বচসা এবং মারামারি শুরু হয়। তাতে প্রথমে বিক্ষোভ দেখানে দলের দুই যুবকের মাথা ফাটে বলে অভিযোগ। আহত দু’জনকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

খবর পেয়ে পটাশপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারধরে জড়িত থাকার সন্দেহে দু’জনকে আটক করে নিয়ে যায় তারা। পাশাপাশি, তামিলনাড়ু ফেরত ওই যুবকদের বিনা বাধায় বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থায় করা হয়। পটাশপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকেরা করোনা আক্রান্ত এবং তাঁদের থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, এই সন্দেহে কয়েকজন যুবকে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া। তা ঘিরেই মারধরের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে, কাঁথি-৩ ব্লকে অন্ধ্রপ্রদেশ ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকেরা সরকারি নিভৃতবাস কেন্দ্রের বদলে বাড়ির কাছেই একটি স্কুলে থাকতে চেয়ে বিক্ষোভ দেখান। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে ওইসব পরিযায়ী শ্রমিকদের বনমালীচট্টা হাইস্কুলে রাখতে বাধ্য হয় ব্লক প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রের খবর, লাউদা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বনমালীচট্টা, সাকাবাই গ্রামের ২০-২৫ জন বৃহস্পতিবার রাতে এলাকায় ফিরেছেন।

তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনা উপসর্গ না থাকায় বাড়িতে থাকার জন্য স্বাস্থ্য কর্মীরা নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি ছোট। তাই বাড়ির কাছে একটি সরকারি স্কুলে থাকতে চেয়েছিলেন তাঁরা। যদিও ওই স্কুলটি সরকারি কোয়রান্টিন সেন্টার না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে স্কুলটি খুলতে চাইছিলেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরপর রাতের স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকেরা। রাতে সেখানে যান কাঁথি-৩ এর বিডিও নেহাল আহমেদ এবং মারিশদা থানার পুলিশ। পরে তাঁদের মধ্যস্থতায় স্কুলে শ্রমিকদের রাখা হয়।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তথা জেলা পরিষদের প্রাক্তন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘‘সরকারিভাবে স্কুলে কোয়রান্টিন সেন্টার গড়ে ওঠেনি। তবে স্থানীয়েরা পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সেখানে থাকতে চেয়েছিল বলে কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিককে সেখানে রাখা হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement