প্রতীকী ছবি।
করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা জেলার বিভিন্ন এলাকার বহু বাসিন্দাকে চণ্ডীপুরের করোনা হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ১৬ জনের লালারসের নমুনায় করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি বলে জানাল স্বাস্থ্য দফতর।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ময়না, ভগবানপুর-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার চণ্ডীপুর করোনা হাসপাতালে লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছিল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মঙ্গলবার প্রত্যকের করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে।
রামনগরের এক পরিবারের ১১ জন বাসিন্দাকে সোমবার রাতেই চণ্ডীপুরের ওই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের লালারসের নমুনা মঙ্গলবার সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। ওই পরিবারের এক আত্মীয় সম্প্রতি ওড়িশায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তার আগে তিনি রামনগরে এসেছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে গোটা এলাকা কার্যত থমথমে। বাড়ি থেকে কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। এলাকায় প্রায় সমস্ত দোকানপাট বন্ধ।
রামনগর-১ ব্লকের ওই এলাকার বাসিন্দাদের করোনা সংক্রমণ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য উদ্যোগী হয়েছে দিঘা থানার পুলিশ। সোমবার বিকেলে এবং মঙ্গলবার সকালে দু'দফায় ওই গ্রামে গিয়েছিল পুলিশ। তারা এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দেয়। পাশাপাশি, অকারণে বাড়ি থেকে বাইরে না বেরনোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে রামনগর-১ এর বিডিও বিষ্ণুপদ রায় বলেন, ‘‘ওই পরিবারের আইসোলেশনে থাকা সদস্যদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও এসে পৌঁছয়নি।’’
অন্যদিকে, ভিন্ রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে। এ জন্য মেচেদা বাজারে পথসাথী কোয়রান্টিন সেন্টার এবং চণ্ডীপুর করোনা হাসপাতালকে তৈরি রাখা হচ্ছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ৮৪ জন পরিযায়ী শ্রমিক চণ্ডীপুর করোনা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এসেছেন। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ভিন রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনও সমস্যা ধরা না পড়লেও তাঁদের বাড়িতে হোম কোয়রান্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আর যে শ্রমিকদের করোনা উপসর্গ চিহ্নিত হবে, তাঁদের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।