চালু হয়নি ঘাটুয়া গ্রামের এই কেন্দ্রই। —নিজস্ব চিত্র।
বাড়িতে পালন করা শঙ্কর গরুর দুধ বিক্রির জন্য প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মাজনা বাজারে যেতে হয় অসিত মল্লিককে। এতদূর গিয়েও ভাল দাম মেলে না। অথচ বছর দুয়েক আগে গ্রামের মধ্যেই দুগ্ধ সমবায় সমিতি গড়ে নতুন দুধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি বসায় আশায় বুক বেঁধে ছিলেন অসিতবাবু-সহ এলাকার গরু পালকরা। কিন্তু কাঁথি-১ ব্লকের ঘাটুয়া গ্রামের সমবায় সমিতির উদ্যোগে ও সরকারি আর্থিক সাহায্যে যে দুধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ছিল, সেটা চালু হয়নি এখনও।
দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু করতে দেরির কথা স্বীকার করে জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ দেবব্রত দাস বলেন, ‘‘ঘাটুয়ায় দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালুর জন্য সমবায় সমিতি গঠন করে রেজিস্ট্রেশন পেতে কিছু দেরি হয়েছে। তবে শীঘ্রই ওই দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু করা হবে।’’
কলকাতা–দিঘা সড়কে কাঁথি শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ঘাটুয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় একটি পাকা বাড়িতে দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র বসানো হয়েছে। প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচে গুজরাত থেকে আনা ২০০০ লিটার ক্ষমতার একটি বাল্ক কুলার মেসিন বসানো হয়েছে। এলাকার গরু চাষিদের উৎপাদিত দুধ কিনে যন্ত্রের সাহায্যে তা প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। স্থানীয় বীণাপাণি দুগ্ধ সমবায় সমিতির অধীনে ঘাটুয়া, টগরিয়া ও কাপাসদা গ্রাম মিলিয়ে মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়াও এলাকায় কয়েকশো বাসিন্দা গরুর দুধ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
গৃহবধূ দেবী বেরা বলেন, ‘‘বাড়িতে দুটো গরু রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪ কেজি করে দুধ পাওয়া গেলেও এখন দুধ বিক্রি করতে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মাজনা বাজারে যেতে হয়। সেখান দামও ঠিকমত পাওয়া যায় না।’’ সমবায় সমিতির সদস্য পবিত্র গিরি বলেন, ‘‘২০১৫ সালে সমিতি প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খরচে এই ঘর তৈরি করে। কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে যন্ত্রপাতি বসানোও হয়েছে। কিন্তু পানীয় জলের সমস্যার এতদিনেও দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু হয়নি।’ ’দুগ্ধ উৎপাদক সমবায় সমিতির সভাপতি তথা কাঁথি-১ পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য-প্রাণী সম্পদ কর্মাধ্যক্ষ দীপ্তিদাস অধিকারী বলেন, ‘‘প্রধান বাধা ছিল জল। তবে জলের চাহিদা মেটাতে কয়েকদিন আগেই নলকূপ বসানো হয়েছে। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে এই কেন্দ্র চালু হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’’