দিলীপ ঘোষ। —ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের অব্যবহিত পরে তৃণমূলের একের পর এক নেতা শীর্ষ নেতৃত্বকে তোপ দাগছেন। দলবিরোধী কাজ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কয়েক জন শাস্তিও পেয়েছেন। কিন্তু ‘বিদ্রোহের’ খামতি নেই। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের নয়া মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। তাঁর দাবি, এখন অনেকেই দল বদলে বিজেপিতে নাম লেখানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু সকলকে নেওয়া হবে না।
৯ মে, শনিবার ব্রিগেডে রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মন্ত্রিসভায় যে পাঁচ জন শপথ নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে একজন দিলীপ। মন্ত্রী মনোনীত হওয়ার পরদিনই দিলীপ গিয়েছিলেন তাঁর বিধানসভা এলাকা খড়্গপুর সদরে। বস্তুত, প্রায় ৫০ বছর পর ‘মিনি ইন্ডিয়া’ খড়্গপুর সেখান থেকে একজন মন্ত্রী পেয়েছে। সঙ্ঘের প্রচারক থেকে রাজনীতিতে পা দিয়ে এই খড়্গপুর থেকেই প্রথম জয় পেয়েছিলেন দিলীপ। কিছু দিন বিধায়ক, তার পর মেদিনীপুরের সাংসদ হয়েছেন।
দিলীপ জানান, গত ৫০ বছরে তেমন কোনও কাজই হয়নি ওই এলাকায়। এ বার মন্ত্রী হিসাবে সেখানকার তো বটেই রাজ্যের উন্নতিকল্পে কাজ করতে পারবেন। পদযাত্রায় কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে দিলীপ বলেন, ‘‘এর আগেও এখানে জিতেছি। এ বার লড়াই ছিল, মানুষ উৎসাহের সঙ্গে জিতিয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে সকলে পরিবর্তন চেয়েছিলেন। আমরা জিতেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বহু বছর পর খড়্গপুর মন্ত্রী পেয়েছে। এতে সকলে বেশি খুশি। নিজের বিধানসভায় এসেছি। মন্ত্রী হয়েছি। এ বার কিছু করার সুযোগ পাব। অনেক কাজ বাকি আছে। নতুন করে সব শুরু করতে হবে। ৫০ বছর ধরে কিছু হয়নি।’’ ঠিক এর পরেই দিলীপের মন্তব্য, ‘‘হারের পর অনেকেই বিজেপিতে আসার চেষ্টা করবে। কিন্তু সবাইকে নেওয়া হবে না।’’
তবে এই ‘সকলের’ মধ্যে যদি কয়েক জনকে বিজেপি দলে নেয়, তাঁরা কারা এবং এই বাছবিচারের সূচক কী হবে, তা পরিষ্কার করেননি দিলীপ।