School reopening: বন্যায় নষ্ট বইপত্র একপাশে সরিয়ে রেখে খুলল স্কুল

রাজ্য সরকার স্কুল খোলা নিয়ে তোড়জোড় শুরু করায় স্কুলে ত্রাণশিবিরের কথা ভেবে কিছুটা দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২১ ০৬:৫৭
Share:

বন্যার পর আগোছালো অবস্থাতেই খুলল চিস্তিপুর অঞ্চল হাইস্কুল। নিজস্ব চিত্র।

আগাম সতর্কতায় টেবিলের উপর বেঞ্চ রেখেই স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও আলমারি গুলিকে উঁচু করে রাখা হয়েছিল। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। নদীবাঁধ ভাঙনের ফলে জলে ডুবে নষ্ট হয়েছে সেই সব গুরুত্বপূর্ণ নথি, বইখাতা ও কম্পিউটার। ঘর বাড়ি ডুবে যাওয়ায় স্কুলের দোতলায় ঠাঁই নিয়েছিলেন বানভাসিরা। আশ্রয় নিয়েছিল গবাদি পশুও। তাই রাজ্য সরকার স্কুল খোলা নিয়ে তোড়জোড় শুরু করায় স্কুলে ত্রাণশিবিরের কথা ভেবে কিছুটা দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। দিন পনেরো আগে সেই সমস্যা থেকে রেহাই মিললেওডলে ডুবে থাকার কারণে স্কুল খোলার আগে রাজ্য সরকারের তরফে স্কুলকে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন করার কথা বলা হলেও তা পুরোপুরি করা সম্ভব হয়নি। চারিদিকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই তাই সরকারি নির্দেশিকা মেনে মঙ্গলবার কোনওরকমে খুলল চিস্তিপুর অঞ্চল হাইস্কুল। স্কুল শুরুর ঘণ্টা বাজার পর দীর্ঘ অনুপস্থিতি কাটিয়ে স্কুলে হাজির হয়েছিল বানভাসি এলাকার ছাত্রছাত্রীরা।

Advertisement

কেলেঘাই নদীর জল ফুলে ওঠায় পটাশপুরে তালছিটকিনির কাছে নদীবাঁধ সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে ভেসে যায় পটাশপুর ও ভগবানপুর সহ একাধিক ব্লক। আগাম সতর্কতায় নদী বাঁধ ভাঙনের আগের রাতেই স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীরা টেবিলের উপর বেঞ্চ রেখে উঁচু করে স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কাগজপত্র আলমারি সরিয়ে রাখেন। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। স্কুলের একতলা প্রায় সম্পূর্ণ ডুবে যায়। প্রাণ বাঁচতে ওই রাতেই স্কুলের তালা ভেঙে এলাকার বানভাসি মানুষ স্কুলের দোতলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। জলের তোড়ে স্কুলের শৌচাগার ও মিড-ডে মিলের রান্না ঘরের একাংশ ভেসে যায়। ছাত্রাবাসে ছাত্রদের বইপত্র, পোশাক, আসবাবপত্র সবকিছু যে জলে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে তা এদিনও দেখা গিয়েছে। মিড-ডে মিলের চাল পচে স্কুলে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। জলের স্রোতে বয়ে আসা পলি নুড়ি পাথরে স্কুলের মেঝে ছ'ইঞ্চি পুরু হয়ে ঢেকে গিয়েছিল। স্কুল খোলার ঘোষণার পর সপ্তাহ খানেক আগে জল নামায় কোদাল দিয়ে পলি সরিয়ে স্কুল পরিষ্কার করা হয়েছে।

বন্যার জলে নবম ও দশম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র ও স্কুলের সার্ভিস বুক, কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, স্কুলের অনুমোদনের কাগজ, স্কুলের দলিল সবই নষ্ট হয়েছে। শুধুমাত্র স্কুলের জায়গার প্রামাণ্য নথিটুকু বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। পাম্প ডুবে থাকায় এখনও স্কুলে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা যায়নি। এত সমস্যার মধ্যেও নির্দেশিকা মেনেই কোনওমতেই মঙ্গলবার চিস্তিপুর অঞ্চল হাইস্কুলের দরজা খোলা হয়। চারদিকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দু-একটি শ্রেণিকক্ষকে পরিষ্কার করে সেখানে ছাত্রছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা হয় এ দিন।

Advertisement

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, নবম ও দশম শ্রেণিতে মোট একশো জন ছাত্র ছাত্রী রয়েছে। তবে মঙ্গলবার হাডির ছিল মাত্র কয়েকজন ছাত্রছাত্রী। কারণ অনেকেরই বইখাতা বন্যার জলে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এদিন স্কুল আসতে পারেনি। প্রধান শিক্ষক পিন্টু কুমার দে বলেন, ‘‘বন্যায় আমাদের স্কুলের ও ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশনের কাগজ সহ যাবতীয় নথি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে কম্পিউটার ল্যাবে। তবে অনেক সমস্যার মধ্যেও ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে এ দিন স্কুল খোলার পর বেশ ভাল লাগছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement