Coronavirus

স্বাস্থ্যকর্মীরা অনিয়মিত, নমুনা সংগ্রহেও দেরি

জেলা প্রশাসনের অবশ্য দাবি, স্কুলের নিভৃতবাস-সহ সার্বিক বিষয়ে নজরদারির জন্য পঞ্চায়েত স্তরে টাস্ক ফোর্স তৈরি হয়েছে।

Advertisement

অভিজিৎ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২০ ০৪:২৭
Share:

প্রতীকী ছবি

নিভৃতাবাসগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকরা কেমন আছেন তার খোঁজখবরটুকুও নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।

Advertisement

ঘাটাল-দাসপুরের কয়েকটি নিভৃতাবাসে ঘুরে দেখা গিয়েছে নিয়ম না মানার ছবি। কেউ বাইরে ঘুরছেন। কেউ বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছেন। কেউ আবার স্কুলের দরজার হাত দিয়ে বাড়ির লোকেদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকছেন। বাড়ির লোক এসেও আবার সেই দরজাতেই হাত দিচ্ছেন! কোথাও আবার নিভৃতাবাসে থাকা পরিবারের সদস্যের এঁটো থালা, বাটি-গ্লাস ধুয়ে দিয়ে যাচ্ছেন আত্মীয়েরা। অনেকে জ্বর-সর্দি হলে বাজার চলতি ওষুধ আনিয়ে খেয়ে নিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসনের অবশ্য দাবি, স্কুলের নিভৃতবাস-সহ সার্বিক বিষয়ে নজরদারির জন্য পঞ্চায়েত স্তরে টাস্ক ফোর্স তৈরি হয়েছে। সেখানে পুলিশ, প্রশাসনের প্রতিনিধি থেকে জনপ্রতিনিধিরা আছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরাও নিভৃতবাসগুলিতে নিয়মিত যাচ্ছেন। কোনও পরিযায়ী শ্রমিকের উপসর্গ থাকলে তাঁকে চিহ্নিত করে লালারস নেওয়া হচ্ছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, “ঘাটাল-দাসপুরের পরিস্থিতি এখন অনেকটা ভাল। এটা সম্ভব হয়েছে উপযুক্ত প্রশাসনিক নজরদারি।”

Advertisement

তবে স্কুলের নিভৃতাবাসে থাকা পরিযায়ীদের অভিজ্ঞতা অবশ্য অনেকটাই আলাদা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঝে মাঝে আসছেন। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে না। কারও উপসর্গ পেলে তাঁর লালারস নেওয়া হচ্ছে বটে কিন্তু রিপোর্ট আসতে দেরি হচ্ছে। অনেক সময়ে সংশ্লিষ্ট পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরে তাঁর রির্পোট পজ়িটিভ আসছে। এখন অনেকেই উপসর্গ ছাড়াই সংক্রমিত হচ্ছেন। তাই উপসর্গ না থাকলেও কেউ নিভৃতাবাসে থাকলেই তাঁর লালারস পরীক্ষার দাবি উঠেছে। ঘাটালের ইড়পালা হাইস্কুলে থাকা এক পরিযায়ী শ্রমিকের কথায়, “আমার এক বন্ধু নিভৃতাবাস থেকে বাড়ি ফেরার পরে তাঁর রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। সেই সূত্রে তাঁর দুই আত্মীয়ও আক্রান্ত হয়েছেন। নিভৃতাবাসে যাঁদের লালারস নেওয়া হচ্ছে, তাঁদের রিপোর্ট পাওয়ার পর ছাড়লে হলে ভাল হয়।”

প্রশাসন যতই সব ঠিক আছে বলে দাবি করুক, বাস্তব পরিস্থিতি যে অনেকটাই আলাদা তা মানছেন স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ। দাসপুরের এক স্বাস্থ্যকর্মীর কথায়, ‘‘এটা ঠিক যে জরুরি ভিত্তি ছাড়া বাদবাকি অন্য ক্ষেত্রে নজর দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের পিপিই কিট পর্যাপ্ত নয়। তাই ঝুঁকি নিতে পারছি না।’’ (শেষ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement