গণনাকেন্দ্রে চিত্তরঞ্জন মণ্ডল। নিজস্ব চিত্র
তিনি শিক্ষক। ভোটে তিনি লড়াই করেছিলেন ছাত্রের বিরুদ্ধে। ছাত্রকে হারাতে না পারলেও বাম-কংগ্রেস জোটের ভোট শতাংশ কিছুটা হলেও বাড়াতে পেরেছেন চিত্তরঞ্জন মণ্ডল। তিনটি কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে একমাত্র খড়্গপুরেই শুরুতে কিছুটা হলেও লড়াইয়ে ছিল জোট। তবে জোটের ভোট শতাংশ বাড়লেও তাতে যে পরোক্ষে তৃণমূলই লাভবান হয়েছে সেটা কংগ্রেস প্রার্থীও মানছেন।
তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার স্কুলজীবনে তাঁর ছাত্র। শহরে বাড়ছিল তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। বৃহস্পতিবার গণনার শুরুতে প্রথম রাউন্ডে ৫৪৪ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যান চিত্তরঞ্জন। তবে শেষপর্যন্ত চিত্তরঞ্জনের ঝুলিতে আসে ২২৫৩০টি ভোট। ভোটে জিতে শিক্ষককে প্রণাম করেন প্রদীপ।
গত লোকসভা নির্বাচনে আলাদাভাবে লড়াই করেছিল বাম ও কংগ্রেস। সম্মিলিতভাবে ধরলে বাম-কংগ্রেস প্রায় ১০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এ বার জোট প্রায় ১৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ লোকসভায় জোট হয়েছিল ধরলে প্রায় ৫ শতাংশ ভোট বেড়েছে জোটের। পুর এলাকায় চিত্তরঞ্জন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ বলে পরিচিত। এই ভোটবৃদ্ধি সে কারণেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গত লোকসভার থেকে বিজেপির ভোট কমেছে ২৩ শতাংশ। তার মধ্যে কিছু ভোট জোটের ঝুলিতে এসেছে। ঘটনার কথা কার্যত স্বীকার করেই তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, “বিজেপিতে চলে যাওয়া জোটের ভোট কিছুটা ফিরেছে। আমরা আশা করেছিলাম জোটের অনেক বেশি ভোট ফিরবে। সেটা হয়নি। জোটের ভোট যত বাড়ত আমাদের মার্জিন তত বেশি হত।” প্রদীপের দাবি, “এবার কংগ্রেস নিজের ভোট টানতে পেরেছে। আসলে খড়্গপুরের মানুষ আমাকে চেয়েছিল।”
চিত্তরঞ্জন বলছেন, ‘‘লোকসভার নিরিখে আমরা বেশ কিছুটা ভোট বাড়িয়েছি। সেটা বিজেপি থেকে ফিরে এসেছে বলেই মনে হচ্ছে। তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে আমার ছাত্র তার সুফল কিছুটা পেয়েছে। আগামীদিনে শহরের উন্নয়নে বিধায়ক হিসাবে প্রদীপ কাজ করবে এই আশা রাখছি।”