জনকল্যাণ শিবিরে এসে রোদে অসুস্থ বোধ করছিলেন বৃদ্ধ। মাথায় জল দিচ্ছেন স্ত্রী। নন্দকুমারে। নিজস্ব চিত্র।
একে গরম। দোসর ভোগান্তি। শিবিরে গিয়েও বহু উপভোক্তাকে ফিরতে হয়েছিল বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতা ছাড়া। তারই প্রভাব পড়ল দ্বিতীয় দিনের জনকল্যাণ শিবিরে। পূর্ব মেদিনীপুরে সোমবার এই শিবির শুরু হয়েছে। প্রথম দিন অধিকাংশ শিবিরেই উপচে পড়েছিল ভিড়। তবে দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার বহু শিবিরেই ভিড় কম দেখা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত দিয়ে নন্দীগ্রাম থেকে রাজ্য জুড়ে জনকল্যাণ শিবিরের উদ্বোধন হয়েছিল সোমবার। আয়ুষ্মান ভারত, অন্নপূর্ণা যোজনা, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা- সহ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে সুবিধা পেতে ওই শিবিরে আবেদন করা যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সোমবার শিবিরের প্রথম দিন প্রবল গরম উপেক্ষা করে পূর্ব মেদিনীপুরের সব ব্লক ও পুরসভা এলাকায় শিবিরে সাধারণ মানুষের ভিড় হয়েছিল। মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় সেই ভিড় ছিল ফিকে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার ময়না ব্লকের নতুন পুকুর এলাকার শিবিরে প্রচুর ভিড় ছিল। বহু বয়স্ক এসেছিলেন বার্ধক্য ভাতায় আবেদন করতে। কিন্তু পোর্টালের না খোলায় তাঁদের ফর্ম না নিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাঁদের। এ নিয়ে শিবির পরিদর্শনে আসা মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক অশোক দিন্দাও খানিকটা বিব্রত হন। এ দিন ওই শিবিরে ভিড় অনেকটাই কম ছিল। ভিড় কমেছে এই ব্লকের আদর্শ শিক্ষায়তন শিবিরে, নন্দকুমারের বিবেকানন্দ কমিউনিটি হলের শিবিরেও।
বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা প্রকল্পে আবেদন না জানাতে পারার বিষয়টি লোকমুখে অন্য বাসিন্দারাও জানতে পারেন। পরে অবশ্য রাজ্য সরকার সোমবার রাতেই নির্দেশ জারি করে জানায় যে, বার্ধক্য, বিধবা ও মানবিক ভাতা প্রকল্পে নতুন করে আবেদন জমা নেওয়া হবে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রচারের অভাবে বহু মানুষ জানতে পারেনি বলে অভিযোগ। দাবি, এ জন্যই এ দিন বহু শিবিরে লোকজন অপেক্ষাকৃত কম হাজির হয়েছিলেন। তমলুক, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক ও তমলুক পুরসভা এলাকায় শিবিরে লোকজনের ভিড় হয়েছিল। তবে তা সোমবারের থেকে কমই ছিল। আবার ময়নার কিছু শিবিরে বিকেলে অল্প ভিড় বাড়ে। ময়নার জেলা পরিষদ সদস্য উত্তম সিংহ বলেন, ‘‘আগের দিনের তুলনায় মঙ্গলবার শিবিরে ভিড় কম ছিল। তবে রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী বার্ধক্য, বিধবা ও মানবিক ভাতার জন্য নতুন আবেদন জমা নেওয়ার বিষয়ে শিবির থেকে প্রচার করায় বিকেলে লোকজনের ভিড় বাড়ে।’’
এ দিনও জেলার বিধায়করা জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে যান। তমলুক শহরে রাখাল মেমোরিয়াল ময়দানে ও শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে শিবির পরিদর্শনে যান ময়নার বিধায়ক তথা রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী অশোক দিন্দা এবং তমলুক পুরসভা অফিসে শিবিরে যান বিধায়ক তথা উচ্চ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে