Attempt to Murder

ভিন্‌ রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াকে খুনের চেষ্টা

হেঁড়িয়ায় চায়ের দোকান মনোরঞ্জন ও পূর্ণিমা পাত্রের। ওই দম্পতি বললেন, ‘‘অনেক চেষ্টাতেও বার্ধক্যভাতা পাইনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫১
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রকে ছুরি দিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সহপাঠীদের বিরুদ্ধে। হলদিয়ায় ভোটের মুখে গত ৩ এপ্রিলের ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে আগেই। তবে বিষয়টি সম্প্রতি সামনে এসেছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, আহত ছাত্রের নাম রাজা কুমার। তিনি বিহারের বৈশালী জেলার কলিজালালপুরের বাসিন্দা। বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত ‘হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’র কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের বি-টেকে তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া রাজা। থাকেন কলেজের হস্টেলে। তাঁর পরিবারের দাবি, গত ৩ এপ্রিল দুপুরে রাজার হস্টেল থেকে ক্ষুদিরাম নগরে এক সহপাঠীর ফ্ল্যাটে খেতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁকে পরপর তিনবার ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্য সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করে হলদিয়া বি সি রায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পেটে, কাঁধে আঘাত রয়েছে রাজার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিপদমুক্ত হলেও পুরোপুরি সুস্থ নন আহত ওই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া।

ঘটনায় যশ রওশান এবং হিমাংশু কুমার নামে দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে হলদিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজার বাবা মহেশ রায়। অভিযুক্তরা একই কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তবে এখনও কেউই গ্রেফতার হয়নি। কী কারণে এই খুনের চেষ্টা, এখনও তা স্পষ্ট নয় তদন্তকারীদের কাছে।

রাজার বাবা পেশায় চাষি মহেশ রায় বলছেন, ‘‘রাজা ছোট ছেলে। কলেজের হস্টেলে থাকত। ওর কয়েকজন বন্ধু ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকে। কয়েকদিন আগে একটি ফ্ল্যাটে বন্ধুর জন্মদিন পালনে তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্ষের পড়ুয়ারা গিয়েছিল। পরস্পরের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। সেখানে আমার ছেলে যায়নি। তৃতীয় বর্ষের যারা ঝামেলা ঘটিয়েছিল, তারা তারপর থেকে ছিল না। এর পরে গত ৩ এপ্রিল রাজা এক সহপাঠীর ফ্ল্যাটে খেতে যায়। তখন ওর কাছে চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন জানতে চেয়েছিল, তৃতীয় বর্ষের ওই পড়ুয়ারা কোথায়। রাজা ওদের সম্বন্ধে কিছু বলতে পারেনি। তাতে তিন-চার মিলে রাজাকে মারধর করে ছুরি দিয়ে বারবার আঘাত করেছে।’’

উল্লেখ, বিভিন্ন রাজ্য থেকে হলদিয়ার ওই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ুয়ারা প্রতি বছর ভর্তি হন। এখানে অতীতেও ঝামেলার খবর মিলেছে একাধিকবার। তবে, এ বার ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আতঙ্কিত পড়ুয়ারা। যে বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত হলদিয়ার এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সে সংস্থার সঙ্গে জড়তি প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা লক্ষ্মণ শেঠ। তাঁকে এ ব্যাপারে জানতে ফোন করা হয়। তবে তাঁর ফোন ছিল বন্ধ।

অশান্তি ঠেকাতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে এ ব্যাপারে কলেজ পরিচালন কমিটির সম্পাদক আশিস কুমার লাহিড়ি বলেন, ‘‘কলেজের বাইরে এ ধরনের ঘটনা হওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষের কিছু করণীয় ছিল না। তবুও আক্রান্ত পড়ুয়ার পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন