বাজার নিয়েছে পঞ্জাব বীজ

জোগান সত্ত্বেও খদ্দের নেই সরকারি বীজ কেন্দ্রে

বাজার মূল্যের চেয়ে দাম প্রায় দ্বিগুণ। ফলে আলু মজুত থাকলেও মাছি তাড়াচ্ছে সরকারি আলু বীজ বিক্রয় কেন্দ্রগুলি।

Advertisement

অভিজিৎ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬ ০০:৩৯
Share:

বাজার মূল্যের চেয়ে দাম প্রায় দ্বিগুণ। ফলে আলু মজুত থাকলেও মাছি তাড়াচ্ছে সরকারি আলু বীজ বিক্রয় কেন্দ্রগুলি।

Advertisement

দু’সপ্তাহ আগে থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক জায়গায় সরকারি ভাবে আলু বীজ বিক্রি শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনও সেখান থেকে সাকুল্যে পাঁচ বস্তা আলু বিক্রি হয়েছে। রাজ্য বীজ নিগমের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা ম্যানেজার নলিনীকান্ত প্রধান বলেন, “আমাদের আলু মজুত রয়েছে। সবই সরকার অনুমোদিত বীজ। চার জায়গায় সেন্টার খোলা হলেও খদ্দেরের দেখা নেই।”

রাজ্য জুড়েই এখন আলু চাষ শুরু হয়েছে। আচমকাই নোট বাতিলের চোটে সমস্যায় পড়েছিলেন চাষিরা। কারণ, আলু বীজ ব্যবসায়ীরা পুরনো নোট নিচ্ছিলেন না। আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলু চাষ না করলে ফলনও পাবেন না চাষিরা। পরিস্থিতি আঁচ করে চাষিদের স্বস্তি দিতে এগিয়ে এসেছিল কেন্দ্র সরকার। পুরনো পাঁচশো টাকা দিয়েই সরকারি আলু বীজ বিক্রয় কেন্দ্র থেকে বীজ সংগ্রহ করা যাবে বলে ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাভাবিক ভাবেই রাতারাতি জেলায় জেলায় করে একাধিক বীজ বিক্রি কেন্দ্র খোলে রাজ্য বীজ নিগম। পর্যাপ্ত বীজ আলুও মজুত করা হয়। কিন্তু তারপরও সরকারি বীজ বিক্রয় কেন্দ্রগুলিতে চাষিদের দেখা মেলেনি।

Advertisement

এখন প্রশ্ন, সরকারি কেন্দ্রগুলিতে শংসিত বীজ আলুই বিক্রি হয়। এই বীজ ব্যবহার করলে বেশি ফলনও পাবেন চাষিরা। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন খদ্দের আসছে না?

সূত্রের খবর, জেলার চাষিরা মূলত পঞ্জাবের বীজেই চাষ করেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু নোট বাতিলের পর পরই বীজ বিক্রিতে ভাল রকমের প্রভাব পড়েছিল জেলা জুড়ে। ক’দিন আগেও বস্তা পিছু (পঞ্চাশ কিলোগ্রাম) বীজ আলুর দাম ছিল ১০০০-১১৫০ টাকা। ওই সময় ব্যবসায়ীরা পঞ্জাবে গিয়ে বীজ আলুর জন্য টাকা জমা দিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু আচমকাই পঞ্জাব থেকে অতিরিক্ত বীজ এসে গিয়েছে জেলায়। চাহিদার তুলনাই জোগান বেশি হওয়ায় এক লপ্তে দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৫০০ টাকা প্রতি বস্তা। সরকারি বীজ আলু বিকোচ্ছে ১২৫০ টাকা প্রতি বস্তায়। শুধু দ্বিগুণ দামই নয়, সরকারি কেন্দ্রগুলিতে যে বীজ আলু বিক্রি হচ্ছে তাতে প্রতি বস্তাতেই বিভিন্ন সাইজের (২০ গ্রাম-৮০ গ্রাম) আলু রয়েছে। এতে বিঘা প্রতি চার থেকে পাঁচ বস্তা আলু লাগছে। বেসরকারি বীজ আলু বিক্রয় কেন্দ্রগুলিতে সব বস্তা থাকছে ইউনিফর্ম সাইজের আলু। ফলে বিঘা প্রতি আলু লাগছে দু’-আড়াই বস্তা। সরকারি কেন্দ্র থেকে বীজ কিনে বিঘা প্রতি খরচ পড়ছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বীজ কিনলে দেড় থেকে দু’হাজার টাকাতেই কাজ মিটে যাচ্ছে। ফলে সরকারি কেন্দ্রগুলিতে ভিড় কম চাষিদের।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement