ডিভাইডার নেই। সঙ্কীর্ণ রাস্তায় দ্বিমুখী যান চলাচল।—নিজস্ব চিত্র।
ব্যস্ত সড়কে দুর্ঘটনার ফাঁদ।
দুর্ঘটনা রুখতে খড়্গপুরের শহরের ব্যস্ত মালঞ্চ রোড সম্প্রসারণ করার কাজ করার শুরু হয়। সেই সময় রাস্তার দু’টি লেনের মাঝের গার্ডরেল সরিয়ে দেওয়া হয়। দিন কয়েক আগে রাস্তা চওড়া করার কাজ শেষ হয়ে গেলেও আর গার্ডরেল বসানো হয়নি। দু’মুখী (ডাবল লেন) এই রাস্তায় নিয়ম না মেনেই চলছে গাড়ি। দাপট বাড়ছে বেপরোয়া মোটরবাইকেরও। দুর্ঘটনাও ঘটছে আকছার। যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে দিনের ব্যস্ত সময়ে মালঞ্চ রোড়ে ভারী যানবাহনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ।
শুধু মালঞ্চ নয়, শহরের ট্রাফিক রোড, ঝাপেটাপুর রোড, ইন্দার ওটি রোড বেপরোয়া মোটরবাইক চালকদের দৌরাত্ম্যে দুর্ঘটনার প্রবণতা বাড়ছে। মালঞ্চ রোডে দুর্ঘটনা কমাতে ‘স্পিড ব্রেকার’, ‘গার্ডরেল’ বসানো হয়েছিল। কিন্তু এখন গার্ডরেল তুলে দেওয়ায় ফের বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মালঞ্চ রোডে দু’টি লেনের মাঝে বর্তমানে কোনও ডিভাইডার না থাকায় নিজের ইচ্ছে মতো গাড়ি চলে। ২০১৩ সালের ২ নভেম্বর কালীপুজোর রাতে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনা কমাতে মালঞ্চ রোডে পুলিশের উদ্যোগে ‘স্পিড ব্রেকার’, ‘গার্ডরেল’ বসানো হয়। কিন্তু এখন আর গার্ডরেলের বালাই নেই। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশও থাকে না বলে অভিযোগ। বেপরোয়া বাইকের দৌরাত্ম্যও চলছেই। অভিযোগ, পুলিশ সব জেনেও নীরব।
মালঞ্চর বাসিন্দা রেলকর্মী কৌশিক চক্রবর্তী বলেন, “বেপরোয়া বাইক চালকদের দাপটে পথচলতি মানুষের বিপদ বাড়ছে। আমার বৃদ্ধ বাবা এখন রাস্তায় চলাফেরার সময় আতঙ্কে থাকেন। ওই রাস্তার যান নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা জরুরি।” মালঞ্চ রোডে দ্রুত গার্ডরেল বসানোর দাবিও জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিমপুরা ও সাহাচক দিয়ে দিনের ব্যস্ত সময়ে শহরে ভারী যানবাহন ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ নিয়ে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্ত বলেন, “মালঞ্চ রোডে যানবাহনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সমস্যা রয়েছে। ওই রাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রথের সময় থেকেই ওই রাস্তায় ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বেপরোয়া বাইক চালকদের আটকানো মুশকিল। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়াতে পদক্ষেপ করা হবে।”