কন্যাশ্রীর পর রূপশ্রী। নাবালিকা বিয়ে ঠেকাতে একের পর এক প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। চলছে লাগাতার প্রচারও। তবে এ সবের ফাঁক গলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েদের বিয়েও হচ্ছে আকছার।
রবিবার দাসপুরের জোতঘনশ্যামে এক ষোড়শীর বিয়ে আটকাতে গিয়ে তো রীতিমতো হামলার মুখে পড়েছিলেন যুগ্ম বিডিও এবং চাইল্ড লাইনের প্রতিনিধিরা। প্রাণ বাঁচাতে পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাঁদের। শেষমেশ অবশ্য মুচলেকা দিয়ে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর বাবা-মা জানিয়েছেন, প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না।
পরিসংখ্যান বলছে, যত সংখ্যক বিয়ে আটকাচ্ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাবালিকা বিয়েও হচ্ছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত দু’মাসে ঘাটালে ১২জন নাবালিকার বিয়ে হয়েছে। বেসরকারি মতে সংখ্যাটা দ্বিগুণ।
জেলা জুড়ে কন্যাশ্রী চলছে। হালে জুড়েছে রূপশ্রীর মতো প্রকল্পও। তার পরেও নাবালিকা বিয়ের প্রবণতা কমছে না কেন? পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক পি. মোহন গাঁধীর বক্তব্য, “আগের চেয়ে এই প্রবণতা অনেক কমেছে। প্রশাসন সক্রীয়। সচেতনতা বাড়াতে প্রচার বাড়ানো হচ্ছে।” তবে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক অবশ্য মানছেন, “বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে প্রচারের পরেও নাবালিকা বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা কমছে না। বিয়ে আটকাতে গেলে হামলার ঘটনা ঘটছে। এতেই চিন্তা বাড়ছে।”
প্রশাসনের এক সূত্রের ব্যাখ্যা, সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের বিরুদ্ধে মামলা করাও জরুরি। তা না হলে এমন প্রবণতা কমানো মুশকিল। একই সঙ্গে চাইল্ড লাইনের মতো পঞ্চায়েত-সহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। বাড়াতে হবে জনসংযোগ। ব্লকে ব্লকে পৃথক কমিটি গড়তে হবে। যে কমিটি নিয়ম করে নজরদারি চালাবে যে কোনও নাবালিকার বিয়ের তোড়জোড় হচ্ছে কি না। তাহলে আয়োজনের আগেই আটকানো যাবে বেআইনি বিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, “অনেক সময় বিয়ের দিন খবর পৌঁছচ্ছে। তখন সব আয়োজন সারা। খরচপাতির একটা ব্যাপার তো থাকেই। বিয়ের আসরে গিয়ে বিয়ে আটকানোয় হামলার ঘটনা ঘটছে।” চাইল্ড লাইনের জেলা কো-অর্ডিনেটর বিশ্বনাথ সামন্ত বললেন, “বিয়ের দিনের আগে বিয়ে বন্ধ করতে ততটা সমস্যা হয় না। বিয়ের দিনই যত ঝামেলা বাধে। তাই আরও নজরদারি জরুরি।”
চাইল্ড লাইন ও প্রশাসনের এক সূত্র জানাচ্ছে, ক’মাস আগেই চন্দ্রকোনায় এক নাবালিকার বিয়ে আটকাতে গিয়ে বড় রকম বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল প্রশাসনিক আধিকারিকদের। রবিবার দাসপুরের জোতঘনশ্যামেও দশম শ্রেণি পড়ুয়া বছর ষোলোর এক তরুণীর বিয়ে খবর পৌঁছছিল প্রশাসনের কাছে। খবর পেয়ে তা আটকাতে গিয়ে মেয়েটির পরিজনদের কাছে হামলার মুখে পড়েছিলেন যুগ্ম বিডিও পরিমল সাহু-সহ চাইল্ড লাইনের প্রতিনিধিপা। এক সিভিক ভলান্টিয়ারের মোবাইলও কেড়ে নেওয়া হয় বলে খবর। শেষমেশ বিয়ে রোখা গিয়েছে। দাসপুর ২-এর বিডিও অনির্বাণ সাহু বলেন, “ওই মেয়েটি প্রশাসনের নজরদারিতেই রয়েছে। মেয়ের বাবাকে সোমবার ব্লক অফিসে ডাকা হয়েছিল। আঠারো বছরের আগে যাতে বিয়ে না দেওয়া হয় ফের সতর্ক করা হয়েছে।”