ড্রোনে নজরদারি মেদিনীপুরে। ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল
সাপ্তাহিক লকডাউনের দ্বিতীয় দিন ছিল শনিবার। গত বৃহস্পতিবারের মতো এদিনও কার্যত বনধের চেহারা দেখা গিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে। লকডাউন ভাঙায় অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
দোকান-বাজার ও গণপরিবহণ বন্ধ ছিল এদিন। রাস্তায় রাস্তায় চলেছে পুলিশি টহলদারি ও নাকা চেকিং। ড্রোন উড়িয়েও নজরদারি চালানো হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার বলেন, ‘‘নজরদারিতে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।’’ একাধিক এলাকায় পুলিশের অতি- সক্রিয়তাও চোখে পড়েছে। সকালে শহরের এলআইসি মোড়ের অদূরে আটকানো হয় এক পেট্রোল পাম্প কর্মীকে। তিনি জানান যে পাম্পে যাচ্ছেন। তখন পুলিশের এক আধিকারিক তাঁকে বলেন, ‘‘পাম্পে যাচ্ছো, না অন্য কোথাও যাচ্ছো, বুঝব কি করে!’’ ওই কর্মী জানান, তিনি পাম্পের নির্দিষ্ট পোশাক পরে রয়েছেন। তখন পুলিশের ওই আধিকারিককে বলতে শোনা যায়, ‘‘ওই পোশাক পরে তো কুটুমবাড়িও যেতে পারো!’’ মেদিনীপুর শহরের পাশাপাশি কেশপুর, শালবনি, মেদিনীপুর গ্রামীণ প্রভৃতি এলাকায়ও পুলিশের কড়াকড়ি দেখা গিয়েছে। কোথাও দোকান-বাজার খোলেনি। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এদিন জেলার অনেকগুলি এলাকায় বিশেষ নাকা চেকিংয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। বিধি অমান্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’
এদিন লকডাউন অমান্য করায় ঘাটাল মহকুমায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দাসপুরে সকালের দিকে অনেকে রাস্তায় লোকজন ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে রাস্তাতেই কান ধরে ওঠবোস করানো হয়। একই ছবি দেখা গিয়েছে বেলদা, কেশিয়াড়ি, নারায়ণগড়, দাঁতন ও মোহনপুরে। যাঁরা জরুরি দরকার ছাড়া বাইরে বেরিয়েছেন তাঁদের বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়েছে। গড়বেতার তিনটি ব্লকের বিভিন্ন রাস্তাতেও পথে ছিল পুলিশ। খোলেনি দোকানপাট, বসেনি বাজার। বন্ধ ছিল রেশন দোকানগুলিও। নজরদারি চালানো হয় গ্রামের ভিতরেও।
বৃহস্পতিবার সপ্তাহের প্রথম লকডাউনে খড়্গপুর শহরের গোলবাজারের তেমন প্রভাব বোঝা যায়নি। শনিবার অবশ্য সেখানে সমস্ত দোকানপাট বন্ধ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, লকডাউন ভাঙায় খড়্গপুরে শহর ও গ্রামীণ মিলিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডেবরায় একটি বেআইনি মদের ঠেক খোলা ছিল। সেখান থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, “অধিকাংশ মানুষ লকডাউনের বিধি মেনেছেন। তবে কয়েকজন মানুষ লকডাউন ভঙ্গের চেষ্টা করায় আমরা আইনি পদক্ষেপ করেছি।”
ঝাড়গ্রামে শহর ও জেলার কয়েকটি এলাকায় কিছু খাবার ও মুদির দোকানে গোপনে কেনাবেচা চলেছে এদিন। তবে পুলিশের টহল গাড়ি ঝাঁপ পুরো বন্ধ করে দেন ওই দোকানিরা। ঝাড়গ্রাম শহর-সহ জেলার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের কড়া নজরদারি ছিল। ওষুধ দোকান খোলা থাকলও সেখানেও তেমন ভিড় ছিল না। ঝাড়গ্রাম শহরের পাঁচ মাথার মোড়ের এক ওষুধ ব্যবসায়ী ইন্দ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘‘সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ১৫ জন ওষুধ কিনতে এসেছিলেন। অন্যদিন এই সংখ্যাটা ৪০০ ছাড়িয়ে যায়। এদিন সকালে জেলা যুবকল্যাণ আধিকারিক প্রেমবিভাস কাঁসারি ও বিকেলে মহকুমাশাসক তথা পুরপ্রশাসক সুবর্ণ রায় শহরের বিভিন্ন মাঠ ও ক্লাব চত্বর ঘুরে দেখেন। বিকেল হতেই শহরের রাস্তায় বেরিয়েছিলেন কিছু যুবক। তাঁদের ধমক দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। লকডাউন সফল করার জন্য শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রশাসনের প্রচার গাড়ি থেকে সাঁওতালি ও বাংলায় প্রচার করা হয়েছিল। এদিনও প্রচার গাড়ি পথে নেমেছিল।