দুর্ভোগের যাত্রা

জীর্ণ পথে বেসামাল হলেই বিপদ

বর্ষা নামতেই বেরিয়ে পড়েছে রাস্তার কঙ্কালসার দশা। খন্দপথে গর্ত বাঁচিয়ে চলা যেন দায়। একটু বেসামাল হলে দুর্ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়। বর্ষার আগে সাময়িক মেরামত করা হলেও বৃষ্টি নামতেই ফের অবস্থা যে কে সেই। যন্ত্রণার যাত্রার ইতি কবে, জানতে চায় খড়্গপুরের বাসিন্দারা। ঘুরে দেখলেন দেবমাল্য বাগচী। বাড়ি থেকে ব্যাঙ্কে যাবেন বলে বেরিয়েছিলেন খড়্গপুরের ইন্দার শরৎপল্লির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত বিভাস হোড়। বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার পরেই খানাখন্দে ভরা জফলা-কমলাকেবিন রাস্তায় স্কুটার বন্ধ হয়ে গেল।

Advertisement
শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৬ ০০:৩০
Share:

জীর্ণ রাস্তা নিমপুরার নতুন পল্লির রাস্তা।

‘নরকে বাস’

Advertisement

বাড়ি থেকে ব্যাঙ্কে যাবেন বলে বেরিয়েছিলেন খড়্গপুরের ইন্দার শরৎপল্লির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত বিভাস হোড়। বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার পরেই খানাখন্দে ভরা জফলা-কমলাকেবিন রাস্তায় স্কুটার বন্ধ হয়ে গেল। জল-কাদা ভরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্কুটার ‘স্টার্ট’ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বিভাসবাবু। সেই সময় দ্রুত গতিতে পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল একটি গাড়ি। মোরাম রাস্তার লালচে জল ছিটকে এসে লাগল বিভাসবাবুর সাদা জামায়। বিভাসবাবু বলছিলেন, ‘‘রাস্তা দেখলে মনে হয় নরকে বাস করছি। রাস্তা সংস্কার হচ্ছে-হবে বলেই কাটিয়ে দিচ্ছে পুরসভা। কবে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব জানিনা।”

Advertisement

পিছল রাস্তা

শহরের অনেক খন্দপথে মোরাম দিয়ে মেরামতির চেষ্টা হয়েছে। ফলে রাস্তার অবস্থা আরও দুর্বিষহ আকার ধারন করেছে। দিন কয়েক আগেই খড়্গপুরের আয়মা এলাকায় এক ব্যক্তি দ্রুতগতিতে যাচ্ছিলেন। টানা বৃষ্টিতে পিছল রাস্তা। দ্রুতগতিতে যেতে গিয়ে পড়ে যান তিনি। শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক জায়গায় রাস্তা সাময়িক মেরামতি করা হয়েছে। যদিও মাস ঘুরতেই রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এই সব রাস্তায় চলাফেরা করতে হয় প্রাণ হাতে নিয়েই।

উদাসীন পুরসভা

খড়্গপুরের ইন্দার বিদ্যাসাগরপুর থেকে ওয়ালিপুর, কমলাকেবিন থেকে জফলা, মালঞ্চ সারগুদাম থেকে বালাজি মন্দির, ডিভিসি থেকে রথতলা, হাসপাতাল ময়দানের পাশের রাস্তা, রথতলা থেকে তালবাগিচা হাইস্কুল যাওয়ার রাস্তার দশা সবচেয়ে খারাপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার আগে রাস্তা সারালে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয় না। তালবাগিচার বাসিন্দা রেল কর্মী সঞ্জীব ঘোষদস্তিদার বলেন, “ডিভিসি এলাকার দু’টি রাস্তাই বেহাল। এ ছাড়াও তালবাগিচা হাইস্কুল সংলগ্ন রাস্তা, হাসপাতাল ময়দানের রাস্তার অবস্থাও চলাচলের অযোগ্য। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা রাস্তার জীর্ণ দশা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তবু রাস্তা সংস্কারে কারও হেলদোল নেই। আমাদেরই দুর্ভোগ বাড়ছে।”

ভোগাচ্ছে নিকাশি

নিয়মিত সাফাই হয় না নিকাশি নালা। অনেক জায়গায় পাকাও হয়চনি নালা। সামান্য বৃষ্টিতেই নালা উপচে জল জমে রাস্তায়। জমা জলে রাস্তা আর আস্তাকুঁড়ের পার্থক্য মেলা ভার বলে অভিযোগ শহরের বাসিন্দাদের একাংশের। নিমপুরার নতুনপল্লির বাসিন্দা নিশিগন্ধা বিশোয়াল বলেন, “একে মোরাম রাস্তা, তার উপর নিকাশির অবস্থাও তথৈবচ। অল্প বৃষ্টিতেই জলে ভাসে রাস্তা। খোদ কাউন্সিলরের বাড়ির সামনের রাস্তার অবস্থাও বেহাল। দ্রুত রাস্তার সংস্কার করা প্রয়োজন।”

রেলের ‘বাধা’

খড়্গপুর পুরসভার আটটি ওয়ার্ড রেল এলাকার অন্তর্গত। রেল এলাকার ওয়ার্ডগুলিতে পুরসভার নির্মাণ কাজে রেল বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ। অনেক আলোচনার পর এখনও সমস্যা মেটেনি দাবি পুরসভার। এলাকাগুলিতে উন্নয়নের কাজে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রশ্নে রাজি হয়নি রেল। রেল এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেল-পুরসভার টানাপ়ড়েনে পুর পরিষেবা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছে। যদিও রেল এলাকায় রাস্তার অবস্থা তুলনায় ভাল। কয়েকটি জায়গায় রাস্তার সংস্কার প্রয়োজন বলে দাবি স্থানীয়দের।

সংস্কারের আশ্বাস

রেলশহরের জীর্ণ রাস্তা সারানোর আশ্বাস দিচ্ছেন খড়্গপুরের পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার। প্রদীপবাবু বলেন, ‘‘রাস্তা নির্মাণের বিষয় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের দেখা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী, পুরসভার কেন্দ্রীয় তহবিলের অর্থ দিয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ ডিভিসি এলাকার রাস্তার সংস্কার হবে। আর বিদ্যাসাগরপুর, জফলা রাস্তার সংস্কারের জন্য এমকেডিএ-কে জানিয়েছি। বর্ষার পরেই রাস্তা সংস্কারে হাত দেওয়া হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement