বাইরে থেকে খাবার দেওয়া হচ্ছে নিভৃতাবাসে
গত ২০ মে আমপানের তাণ্ডবে ভেঙে গিয়েছিল খেজুরি-১ ব্লকের কামারদা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাড় দেউলপোতা প্রাথমিক স্কুলের ভবন। চারিদিকে লতাপাতার ঝোপ। তার মধ্যে ইতিউতি ছড়িয়ে নোংরা প্লাস্টিক ও কাগজের টুকরো। এখানেই নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে মহারাষ্ট্র (মুম্বই) ফেরত তিন পরিযায়ী শ্রমিককে।
গত ২ জুন থেকে স্কুলের ভাঙাচোরা বারান্দায় এক কোণে ত্রিপল দিয়ে ঘেরা জায়গায় তাঁদের থাকার ব্যহস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। করোনার জন্য এমন ব্যবস্থা হলেও এখানে করোনা সতর্কতা বিধি চোখে পড়ল না। সামাজিক দূরত্বের বালাই না রেখে গাদাগাদি করেই রাখা হয়েছে এলাকার তিন পরিযায়ী শ্রমিককে।
বিজয় ব্রহ্ম নামে এক পরিযায়ী শ্রমিকের দাবি, ‘‘চারপাশে নোংরা। কেউ পরিষ্কার করে না, তাই নিজেরাই টাকা খরচ করে ফিনাইল, ব্লিচিং এনে পরিষ্কার করি। নিজেরাই স্যানিটাইজ়ার কিনে এনেছি।’’ ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য দফতরের নির্ধারিত ১৪ দিনের কোয়রান্টিনের (নিভৃতবাসের) মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ১৬ জুন। কিন্তু এতদিনেও তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিংবা লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। গোটা দেশে করোনা আক্রান্তের নিরিখে যে রাজ্য সবচেয়ে এগিয়ে, সেই রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের বক্তব্য, হেঁড়িয়া থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় ওই প্রাথমিক স্কুলে নিভৃতবাসে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কেমন আছেন বা তাঁদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত খোঁজখবর নিয়মিত নেওয়া হয় না। এক পরিযায়ী শ্রমিক জানান, এলাকার এক আশা কর্মী বার তিনেক স্কুলের বাইরে থেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে চলে গিয়েছেন। তার পর বার দুয়েক মোবাইল ফোনে তাঁদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত খোঁজ নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই ভিন্ রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য এবং কোয়রান্টিন কেন্দ্রের পরিছন্নতা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা।
প্রসঙ্গত, কোয়রান্টিন কেন্দ্র পিছু নিয়মিত ১৩০০ টাকা খরচ করা হচ্ছে বলে দাবি করে রাজ্য সরকার। কিন্তু খেজুরির কোয়রান্টিন কেন্দ্রগুলির অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় সিপিএম নেতা হিমাংশু দাসের অভিযোগ, ‘‘রাজ্য সরকার শুধু খাতায়-কলমে কোয়রান্টিন কেন্দ্রে খরচের হিসেব দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে পরিযায়ী শ্রমিকেরা কোয়রান্টিন কেন্দ্রগুলিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।’’
খেজুরি-১ এর বিডিও তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘নিয়মিত আশাকর্মীদের এবং অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যায়ক্রমে গিয়ে কোয়রান্টিন কেন্দ্রে পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার কথা। এক্ষেত্রে কী হয়েছে স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করব।’’ লালারসের নমুনা সংগ্রহ না করার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিডিওর দাবি, ‘‘রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী উপসর্গ না থাকলে কোনও পরিযায়ী শ্রমিকের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হবে না। ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের তেমন কিছু উপসর্গ মেলেনি বলে তাঁদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি।’’