Coronavirus

বহু নমুনা বাতিল, পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন

জেলায় কত নমুনা বাতিল হচ্ছে, একদিনের পরিসংখ্যানেই তা বোঝা যেতে পারে।

Advertisement

বরুণ দে

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২০ ০৬:০৬
Share:

প্রতীকী ছবি।

মাঝেমধ্যেই বাতিল হচ্ছে করোনার কিছু নমুনা। ফলে, নষ্ট হচ্ছে কিটও। অনেক নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আবার অসম্পূর্ণও (ইনকনক্লুসিভ) আসছে। সম্পূর্ণ রিপোর্ট আসছে দেরিতে।

Advertisement

ছবিটা পশ্চিম মেদিনীপুরের। জেলায় কত নমুনা বাতিল হচ্ছে, একদিনের পরিসংখ্যানেই তা বোঝা যেতে পারে। জানা যাচ্ছে, ১ জুন যে সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তার প্রায় ২০ শতাংশই বাতিল হয়েছে। প্রায় ৩১ শতাংশ নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট অসম্পূর্ণ এসেছে। অর্থাৎ, পজ়িটিভ না নেগেটিভ জানা সম্ভব হয়নি। ফলে, ফের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ওই দিন পশ্চিম মেদিনীপুরের ৬৯১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগারে। একটিও পজ়িটিভ হয়নি। নেগেটিভ হয়েছে ৩৩৩টি। অসম্পূর্ণ রিপোর্ট (ইনকনক্লুসিভ) এসেছে ২১৯টি। আর ১৩৯টি নমুনা বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ নষ্ট হয়েছে নমুনা। কিটও নষ্ট হয়েছে।

তবে কি ঠিকঠাকভাবে নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে না? জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘জেলায় এমন কোনও সমস্যা রয়েছে বলে জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি।’’ তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকছে বলে পরোক্ষে মানছেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু। অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘কিছু নমুনা বাতিল করতে হয়েছে বলে শুনেছি। যাঁদের নমুনা বাতিল হয়েছে, ফের তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে।’’ মেডিক্যালের অন্য এক আধিকারিক বলছেন, ‘‘গত দু’-তিন সপ্তাহের প্রায় রোজই একসঙ্গে প্রচুর নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েছে।’’ জানা যাচ্ছে, করোনা পরীক্ষার জন্য সোমবার পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৯,৬৯১ জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ হয়েছে।

Advertisement

এক সময় জেলায় পরীক্ষা কম হচ্ছে বলে অভিযোগ ছিল। পরে পরীক্ষার হার বাড়ে। পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফেরায় পরীক্ষার হার আরও বেড়েছে। জেলা স্বাস্থ্যভবনের এক সূত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে, সম্প্রতি কয়েক হাজার পরিযায়ী জেলায় ফিরেছেন। জেলার বিভিন্ন ব্লকে নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নমুনা মেদিনীপুর মেডিক্যালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। বাতিল নমুনার সংখ্যা দেখে অনেকে নিশ্চিত, বেশ কিছু ক্ষেত্রে নমুনা ঠিকঠাকভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে না। মেডিক্যালে ‘ভাইরোলজি রিসার্চ অ্যান্ড ডায়গনস্টিক ল্যাবরেটরি’ (ভিআরডিএল)-তে নমুনা পরীক্ষা হয়। পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফেরায় বেশি মাত্রায় নমুনা পরীক্ষার জন্য এখন ‘পুল টেস্ট’ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হচ্ছে এখানে। কয়েকজনের লালারসের নমুনা নিয়ে একটি ‘পুল’ তৈরি করা হয়। সেটি নেগেটিভ এলেই ধরা হয় ওই কয়েকজনেরই সংক্রমণ নেই। তবে ‘পুল’ পজ়িটিভ এলে আলাদা করে ওই কয়েকজনের নমুনা পরীক্ষা করতে হয়। এতে বেশি সময়ও লাগে।

অনেকে মানছেন, পরীক্ষাগারে আসা নমুনা বাতিল মানে শ্রম এবং সময়, দু’টোই নষ্ট হওয়া। সংশ্লিষ্ট কিটগুলিও নষ্ট হওয়া। তাঁদের মতে, করোনাভাইরাস একটি নতুন ভাইরাস। তাই যাঁরা নমুনা সংগ্রহ করছেন, তাঁদের সকলের সংগ্রহের পদ্ধতি হয়তো ভাল জানা নেই। জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক অবশ্য বলেন, ‘‘কী ভাবে নমুনা সংগ্রহ হয়, দায়িত্বে থাকা প্রত্যেক কর্মীকে তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’’

নমুনা সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন মূলত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা (এমটি)। ওয়েস্টবেঙ্গল প্রোগ্রেসিভ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাখার সম্পাদক সৌরভ পান্ডা বলেন, ‘‘রোজ অনেক নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে। কিছু ত্রুটি থেকে থাকতে পারে।’’ জেলার এক এমটি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘পরীক্ষাগারে অনেক দিন জমে থাকার কারণেও কিন্তু নমুনা নষ্ট হতে পারে।’’ মেদিনীপুর মেডিক্যালের অধ্যক্ষ মানছেন, ‘‘এক সময়ে প্রচুর নমুনা জমেছিল। তবে এখন আর তেমন ব্যাকলগ নেই।’’ বাতিল হলে দ্বিতীয় দফায় নমুনা সংগ্রহ করাটা ঝক্কিরও। জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের আশ্বাস, ‘‘নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া ত্রুটিমুক্ত রাখার চেষ্টা চলছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement