TMC

Soumen Mahapatra: কাউন্সিলরদের সংবর্ধনায় সেচমন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক

রবিবার তমলুক শহর তৃণমূলের উদ্যোগে পুরসভার নব-নির্বাচিত সমস্ত দলীয় কাউন্সিলরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২২ ০৮:২৯
Share:

নয়া পুরপ্রধান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়কে সংবর্ধনা। নিজস্ব চিত্র।

পুর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ফের পুরবোর্ডে ক্ষমতায় ফিরেছে তৃণমূল। রবিবার তমলুক শহর তৃণমূলের উদ্যোগে পুরসভার নব-নির্বাচিত সমস্ত দলীয় কাউন্সিলরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

Advertisement

সংবর্ধনা সভায় সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র দলের ঘোষিত পুরপ্রধান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়ের উদ্দেশে বলেন, ‘‘পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন ‘চেয়ারম্যান নমিনি’ থাকবে। সেক্ষেত্রে পুরসভার ১৩ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ‘চেয়ারম্যান নমিনি’ হিসেবে ওই দু’টি ওয়ার্ডে তৃণমূলের বিজিত প্রার্থীদের রাখার অনুরোধ করছি।’’ প্রকাশ্য সভায় এভাবে ওয়ার্ড কমিটিতে ‘চেয়ারম্যান নমিনি’ হিসেবে তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থীকে রাখার জন্য মন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুরসভা ও প্রশাসন সূত্রের খবর, পুরসভার প্রতি’টি ওয়ার্ডে প্রশাসনিকভাবে কমপক্ষে ৫ সদস্যের ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদাধিকার বলে ওয়ার্ড কমিটির চেয়ারম্যান হন। বাকিরা এলাকার বাসিন্দাদের দ্বারা নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে একজন সম্পাদক পদে থাকবেন। আর একজন সদস্য ‘চেয়ারম্যান নমিনি’ হিসেবে পুরপ্রধান মনোনীত করেন। কিন্তু ওই মনোনীত সদস্য কারা হবেন তা নিয়ে প্রকাশ্য সভায় সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র উল্লেখ করায় বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

Advertisement

বিজেপি’র তমলুক নগর মণ্ডল সহ-সভাপতি আনন্দ নায়েক বলেন, ‘‘ওয়ার্ড কমিটিতে ‘পুরপ্রধান মনোনীত’ সদস্য হিসেবে ওয়ার্ড এলাকার একজন বাসিন্দা থাকার নিয়ম রয়েছে। সেক্ষেত্রে পুরপ্রধান ওই সদস্যকে মনোনীত করেন। তাতে পরাজিত প্রার্থীকে ‘চেয়ারম্যান নমিনি’ করায় আইনি বাধা নেই। কিন্তু যেভাবে পুরপ্রধান নির্বাচনের আগে প্রকাশ্য সভায় খোদ মন্ত্রী এই নিয়ে মন্তব্য করছেন তাতে নতুন পুরপ্রধানের কাজের স্বাধীনতা কতটুকু থাকবে শহরবাসী তার আঁচ পেয়ে গিয়েছেন।’’

যদিও এনিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দিয়েছেন তমলুকের চেয়ারম্যান হবেন দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়। আগামী ২৩ মার্চ তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেবেন। আমরা তাঁর কাছে অনুরোধ করেছি যে দু’টি ওয়ার্ডে আমাদের যাঁরা বিজিত প্রার্থী, তাঁরা ‘চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি’ হিসেবে জনগণের পাশে থাকবেন। এই দু’টি ওয়ার্ডের জন্য আমাদের দলের তরফে তাঁর কাছে অনুরোধ রেখেছি। তিনিই (চেয়ারম্যান) এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’’

Advertisement

এদিন লগেছিয়ায় সুবর্ণজয়ন্তী ভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছিলেন সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তুষার মণ্ডল, নন্দকুমারের বিধায়ক সুকুমার দে, মহিষাদলের বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী, তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস জেলা সভাপতি শিবানী দে, জেলাপরিষদের মৎস্য-প্রাণীসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ সোমনাথ বেরা ও তমলুক, শহিদ মাতঙ্গিনী, নন্দকুমার, মহিষাদল ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতি, বিভিন্ন পঞ্চায়েতের প্রধান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement