WB Elections 2026

ভবানীপুরে শুভেন্দুর দাপট! চর্চা জেলাতেও

বিজেপির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। অন্য দিকে শুভেন্দু ছিলেন হাসিখুশি, চিন্তামুক্ত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৯:১৪
Share:

ভোটর দিন ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী। নিজস্ব চিত্র ।

পাঁচ বছর আগের কথা। ২০২১ সালের সেই নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের সাক্ষী ছিল নন্দীগ্রাম। এ বার বিধানসভা নির্বাচনে ফের সেই টক্কর হচ্ছে। তবে কেন্দ্র এ বার কলকাতার ভবানীপুরে। দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন মমতার সেই গড়ে শুভেন্দুর ভূমিকায় উচ্ছ্বসিত তাঁর ঘরের লোক থেকে জেলা বিজেপির নেতারা। বিরোধীরা অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না।

এ বার নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, জোড়া কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে লড়ছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। ২৩ এপ্রিল নন্দীগ্রামে প্রথম দফা নির্বাচনের দিন সকালে নন্দনায়েকবাড় বুথে ভোট দিয়ে চরকি পাক খেয়েছেন শুভেন্দু। বুধবার ভবানীপুরেও দিনভর দাপিয়ে বেড়ান তিনি। যে মমতা কোনও কালে ভোট দেওয়া ছাড়া ভোটের দিন বাড়ির বাইরে বেরোননি, তিনিও এ বার সকাল থেকে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরেছেন। বিজেপির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। অন্য দিকে শুভেন্দু ছিলেন হাসিখুশি, চিন্তামুক্ত।

শুভেন্দুর এই চেহারাই ভরসা দিচ্ছে তাঁর জেলার বিজেপি নেতাদের।রামনগরের পদ্ম প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলছেন, ‘‘দাদা কোনও নির্বাচনকেই হালকা ভাবে নেন না। উনি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দুর্গে ঢুকে যে ভাবে তা খান খান করে দিয়েছেন, এটা সকলের কাছে অনুপ্রেরণা।’’ শুভেন্দুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী, বিজেপি নেতা কনিষ্ক পন্ডার মতে, ‘‘পরিকল্পনা ছাড়া ভোট-যুদ্ধে জেতা যায় না। উনি যে ভাবে ভবানীপুরের অলিগলিতে ঘুরেছেন, তাতে মানুষ ভরসা পেয়েছেন। না হলে ভোট লুট করত তৃণমূল।’’ নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর নির্বাচনী এজেন্ট মেঘনাদ পালের কথায়, ‘‘ভবানীপুরে চোখে চোখ রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উনি দেখিয়ে দিয়েছেন লড়াইয়ের কাকে বলে। এটাই জেলাবাসীর গর্ব।’’

শুভেন্দুর বাবা, প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারীও ছেলেকে নিয়ে গর্বিত। তিনি বলেন, ‘‘বীরেন্দ্রনাথ শাসমল থেকে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার অনেকেকেই কলকাতায় প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হয়নি। তবে, এখন মনে হচ্ছে মেদিনীপুর আর কলকাতা খুব কাছাকাছি।’’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামে ছিলেন শুভেন্দু। গণনার প্রস্তুতি সারে। সেখানে ভবানীপুর নাকি নন্দীগ্রাম, কোথায় লড়াই কঠিন ছিল, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজেপি প্রার্থীর দাবি, ‘‘কোনও জায়গাতেই লড়াই কঠিন ছিল না। হিন্দুরা ঝেঁটিয়ে ভোট দিয়েছেন। হিন্দু স্বার্থ সুরক্ষাকারী, বেকার যুবকের স্বার্থ সুরক্ষাকারী, নারী স্বার্থ সুরক্ষাকারী নরেন্দ্র মোদীর আশীর্বাদ ধন্য সরকার বাংলায় হচ্ছে।’’

মমতার বাড়ির অদূরে পটুয়া পাড়ায় শুভেন্দুকে ঘিরে ঝামেলা বা তৃণমূল শিবিরে গিয়ে নরম পানীয়য় শুভেন্দুর গলা ভেজানোকে অবশ্য কটাক্ষ করছেন জেলার তৃণমূল নেতারা। কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি বলছেন, ‘‘সকাল থেকে ভবানীপুরে ঘুরে উনি বুঝেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হারতে হবে। তাই দিনের শেষে আমাদের নেত্রীর পাড়ায় ঢুকে অশান্তি করে ফুটেজ খাওয়ার চেষ্টা করেছেন।’’ একদা শুভেন্দুর রাজনৈতিক সহকর্মী, বর্তমানে কাঁথিতে তৃণমূলের পুর-প্রতিনিধি দেবাশিস পাহাড়িরও খোঁচা, ‘‘ভবানীপুরে কিছু করতে পারবে না। আস্ফালন করা ছাড়া উনি কিছুই জানেন না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন