Debidaha Development

দেবীদহ সংস্কার, রোপওয়ের ভাবনাও

ঝাড়গ্রাম জেলা খনিজ তহবিলের প্রায় ৩১ লক্ষ টাকার প্রকল্পে জামবনি ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে পরিখা সংস্কারের কাজ চলছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ০৯:৩২
Share:

চিল্কিগড়ে জঙ্গলের মাঝে দেবীদহ পরিখা সংস্কারের কাজ চলছে। এই পরিখায় হবে নৌকাবিহার। নিজস্ব চিত্র ।

এক সময় পর্যটকদের কাছে চিল্কিগড় মানেই ছিল কনকদুর্গা মন্দির, ডুলুং নদী আর ঘন জঙ্গলের বুক চিরে দেবীদহ পরিখায় নৌকাবিহারের রোমাঞ্চ। সেই আকর্ষণই হারিয়ে গিয়েছিল গত কয়েক বছরে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে ছ’টি প্যাডেল বোট। পলি জমে মজে গিয়েছে দেবীদহ পরিখার বড় অংশ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে নৌকাবিহার। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে দেবীদহ পরিখা সংস্কারের কাজ শুরু করল প্রশাসন। পাশাপাশি চিল্কিগড়ে রোপওয়ে চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঝাড়গ্রাম জেলা খনিজ তহবিলের প্রায় ৩১ লক্ষ টাকার প্রকল্পে জামবনি ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে পরিখা সংস্কারের কাজ চলছে। প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ ও দরপত্র প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। সম্প্রতি কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পরিখা সংস্কারের মাধ্যমে জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ঘাট নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে নৌকাবিহার পুনরায় চালুর উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ফলে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

ডুলুং নদীর ধারে অবস্থিত চিল্কিগড়ের কয়েক শতাব্দী প্রাচীন কনকদুর্গা মন্দির জঙ্গলমহলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে বিরল ও দুষ্প্রাপ্য গাছগাছালিতে ভরা বিস্তীর্ণ ঘন জঙ্গল। মন্দির চত্বরের পাশেই অর্ধচন্দ্রাকৃতি প্রাকৃতিক পরিখা ‘দেবীদহ’। পরিখার দু’পাশে প্রাচীন বৃক্ষের সারি। নিঝুম পরিবেশে অচিন পাখির ডাক এবং গাছের ডালে হনুমানদের হুটোপাটির শব্দ এক অন্যরকম আবহ তৈরি করে।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে জামবনি ব্লক প্রশাসনের সহযোগিতায় দেবীদহ পরিখায় প্যাডেল বোট পরিষেবা চালু হয়। জঙ্গলের মাঝখানে জলপথে সেই ভ্রমণ দ্রুতই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অনেকেই ওই নৌকাবিহারকে ‘আমাজনের জলযাত্রা’র সঙ্গে তুলনা করতেন। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চে করোনা পরিস্থিতির পরে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। আর তা চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় বোটগুলি নষ্ট হয়ে যায় এবং পরিখাও ধীরে ধীরে পলিতে ভরাট হতে থাকে।

এরই মধ্যে এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু। জামবনির বিডিও-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, “চিল্কিগড়ের এই জঙ্গল অসামান্য সম্পদ। কিন্তু জঙ্গলটি পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র্য পর্ষদের অধীনে থাকায় সেখানে সাধারণ মানুষের অবাধ প্রবেশাধিকার নেই। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ডুলুং নদীর উপর দিয়ে সংরক্ষিত জঙ্গলের মাথার উপর দিয়ে কনকদুর্গা মন্দিরের প্রবেশপথ পর্যন্ত রোপওয়ে তৈরির প্রস্তাব এসেছে। এতে পর্যটকেরা উপর থেকে জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন, আবার জঙ্গলের পরিবেশও অক্ষুণ্ণ থাকবে। বিষয়টি আমি রাজ্য সরকারের কাছে তুলে ধরব।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন