ট্রাকের ধাক্কা দুমড়ে মুচড়ে যায় চারচাকার গাড়িটি। —নিজস্ব ছবি।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ‘ডিউটি’ সেরে বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যু হল এক শিক্ষিকার। তাঁর সঙ্গে প্রাণ গেল গাড়িচালকের। গুরুতর জখম শিক্ষিকার সহকর্মী-সহ আরও তিন জন। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার মেদিনীপুর সদর ব্লকের বনপুরা এলাকার ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দুপুরে মেদিনীপুর-কেশপুর রাজ্য সড়কে একটি ট্রাকের সঙ্গে চারচাকার গাড়ির সংঘর্ষ হয়। তাতে অকুস্থলে দু’জনের মৃত্যু হয়। দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে বার করা হয় তাঁদের। কোতোয়ালি থানার পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পরে দু’টি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পথদুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন রূপা প্রামাণিক নামে ৪৩ বছরের এক শিক্ষিকা। তাঁর বাড়ি মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রনগর এলাকায়। গাড়িচালক শেখ আবু নাসেরেরও মৃত্যু হয়েছে। তিনি কেশপুরের সরাই গ্রামের বাসিন্দা।
রূপা কেশপুর গার্লস হাই স্কুলে ইংরেজি পড়াতেন। মুন্ডুলিকা হাই স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মঙ্গলবার পরীক্ষা শেষে গাড়ি করে বাড়ি ফিরছিলেন। ওই গাড়িতে ছিলেন রূপার সহকর্মী, কেশপুর গার্লস হাই স্কুলের গণিতের শিক্ষিকা কঙ্কনা সাঁতরা ছিলেন। ৪৯ বছরের শিক্ষিকা আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার অভিঘাতে দুই বাইক আরোহী আহত হয়েছেন। তাঁদেরও চিকিৎসা চলছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মেদিনীপুর থেকে কেশপুরের দিকে যাচ্ছিল মালবাহী একটি ট্রাক। মেদিনীপুর গ্রামীণের মুন্ডুলিকা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি চারচাকার গাড়িটিতে ধাক্কা মারে। মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে মুচড়ে যায় গাড়িটি।
দুর্ঘটনার জেরে ব্যাপক যানজট হয়েছিল রাজ্য সড়কে। পুলিশের চেষ্টায় আপাতত যান চলাচল স্বাভাবিক। তবে দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, বারংবার ওই এলাকায় দুর্ঘটনা হয়। কিন্তু প্রশাসনের ভ্রূক্ষেপ নেই!
আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা, মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। তবে চালক এবং খালাসি পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।