বন্ধ বিপণি। নিজস্ব চিত্র
উদ্বোধন হয়েছিল ঘটা করে। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতে মুখ থুবড়ে পড়ার জোগাড় মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের আদর্শ বিপণি ‘রৌদ্র-বৃষ্টি’র।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মানুষ যাতে কম দামে পেতে পারে সেই লক্ষ্যে প্রতিটি পুরসভা এলাকায় ‘রৌদ্র বৃষ্টি’ নামে আদর্শ বিপণি গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো রাজ্য সরকার সেই প্রকল্প গ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত হয়, খাদ্য দফতরের সঙ্গে পুরসভা চুক্তিবদ্ধ হবে। সেই চুক্তি অনুসারে একটি বিপণন সংস্থাকে ওই বিপণি চালানোর জন্য দেওয়া হবে। ওই বিপণিতে মিলবে নামীদামি সংস্থার জিনিসপত্র এবং তা বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে। সেইমত হলদিয়া পুর এলাকাতেও একইভাবে ‘রৌদ্র বৃষ্টি’ আদর্শ বিপণি গড়ে উঠেছিল। গত বছর ৪ জানুয়ারি হলদিয়ার মোহনা মার্কেটে পুরসভা এবং খাদ্য দফতরের যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল ওই বিপণি। উদ্বোধন করেছিলেন হলদিয়ার পুরপ্রধান শ্যামল কুমার আদক। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, মোহনা মার্কেটের তিনটি ঘর হলদিয়া পুরসভা ও খাদ্য দফতরের যৌথ উদ্যোগে একটি বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। ওই বেসরকারি সংস্থা ওখানে কেনাবেচা করবে ঠিক হয়েছিল। আরও বলা হয়েছিল পুরসভার প্রাপ্য লভ্যাংশ সাধারণ মানুষকে ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হবে। ফলে ওই বিপণি থেকে বিক্রিত জিনিসের দাম অনেকটাই কম হবে। যার সুবিধা পাবেন ক্রেতারা। কিন্তু মাসখানেক পরেই অচলাবস্থা দেখা দেয় ওই বিপণিতে। বর্তমানে বেচাকেনা প্রায় বন্ধ সেখানে।
কিন্তু এমন পরিণতি কেন?
ওই বেসরকারি বিপণন সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার সঙ্গে সংস্থার যে চুক্তি হয়েছিল তা পুরসভা মানেনি। ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে সংস্থাকে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিতে যে সমস্ত জিনিস তৈরি হয় সেই সব জিনিসপত্র বিক্রির জন্য ওই বিপণিতে রাখা হবে এবং ওই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সদস্যের সদস্যদের ওই বিপণিতে নিয়োগ করা হবে এমন কথাও হয়েছিল। কিন্তু সবকিছুই বিশবাঁও জলে।
হলদিয়া টাউনশিপের অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার বিপণি যেখানে বাণিজ্যিকভাবে সফল, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনা মতো এই বিপণি কেন জনপ্রিয়তা পেল না, প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। ওই বেসরকারি বিপণন সংস্থার কর্ণধার প্রেমাশিস সরস্বতী বলেন, ‘‘২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে দোকানঘরগুলি সাজিয়েছিলাম। এ ছাড়াও পুরসভার অনুমতি নিয়ে অতিরিক্ত একটি দোকানও তৈরি করতে হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পুরসভা কোনও সহযোগিতা করেনি। এ ব্যাপারে পুরসভাকে বহু চিঠি দিয়েছি।’’ এই পরিস্থিতিতে পুরসভার অসহযোগিতার জবাবে সংস্থার তরফে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে।
হলদিয়ার পুরপ্রধান শ্যামলকুমার আদক বলেন, ‘‘ওই বিপণি আপাতত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’’ পুরসভা সূত্রে খবর, অন্য কোনও বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে বিপণিগুলি সফলভাবে চালানো যায় কিনা ভাবনা-চিন্তা করা হচ্ছে।