মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।ফাইল চিত্র।
দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে রোগী মৃত্যুর অভিযোগের তদন্ত শেষ করতে পারল না মেদিনীপুর মেডিক্যাল। অথচ, মেডিক্যালের প্রাথমিক আশ্বাস ছিল, এক সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত শেষ হবে।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডুর জবাব, “তদন্ত চলছে। ওই রোগীর পরিজনেদের সঙ্গে কথাও বলেছে তদন্ত কমিটি। দ্রুতই রিপোর্ট দেওয়া হবে।” মেডিক্যাল সূত্রের দাবি, বুধবারও তদন্ত কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেছেন। মঙ্গলবারও বৈঠক হয়েছে। অধ্যক্ষ পঞ্চাননবাবুর কথায়, “তদন্ত কমিটি কাজ করছে। প্রয়োজনে বৈঠকও করছে।”
মেদিনীপুর মেডিক্যালের এই ঘটনা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও। ৫ অগস্ট শান্তিনাথ কুণ্ডু নামে এক যক্ষ্মা রোগীর মৃত্যু হয়। তাঁর ভাই মিলন কুণ্ডু অভিযোগ করেন ৪ অগস্ট যে ওষুধ তাঁর দাদাকে দেওয়া হয় সেটি মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল।
ওষুধের মেয়াদ ফুরনোর অভিযোগ যে ভুল নয় তা প্রাথমিক তদন্তেই স্পষ্ট হয়েছে। ঘটনার পরে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে আভা মণ্ডল নামে এক নার্সকে সাসপেন্ড করা হয়।
মেডিক্যালের এক কর্তার স্বীকারোক্তি, “এ ক্ষেত্রে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হয়নি। না-হলে এমনটা হত না।”
পরিস্থিতি দেখে তদন্ত কমিটি গঠন করে মেডিক্যাল। এ ক্ষেত্রে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় চেস্ট মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান প্রণব মণ্ডলকে। মেডিক্যালের এক সূত্রের দাবি, কমিটি প্রাথমিক রিপোর্ট দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও দেয়নি। মেদিনীপুর মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডুর আশ্বাস, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।”