coronavirus

ঘরে ফেরাদের কাজ দিতে শিল্প-ভাবনা

প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে এ নিয়ে জেলার ‘লিড’ ব্যাঙ্ক ম্যানেজার শুভঙ্কর মাহাতোর সঙ্গে কথা হয়েছে জেলার ওসি (শিল্প) সিদ্ধার্থ গুঁইনের।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২০ ০০:১০
Share:

প্রতীকী ছবি।

শুধু একশো দিনের প্রকল্পের কাজ দিয়ে রুটিরুজির সাময়িক সংস্থান নয়, ঘরে ফেরা পরিযায়ীদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেই লক্ষ্যেই নতুন কোনও শিল্প বা কোনও শিল্পের ক্লাস্টার গড়ে তোলা যায় কি না, ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে এ নিয়ে জেলার ‘লিড’ ব্যাঙ্ক ম্যানেজার শুভঙ্কর মাহাতোর সঙ্গে কথা হয়েছে জেলার ওসি (শিল্প) সিদ্ধার্থ গুঁইনের। সিদ্ধার্থ স্বনির্ভর ও স্বনিযুক্তি দফতরের জেলা আধিকারিকও। জানা যাচ্ছে, শীঘ্রই জেলাস্তরে এক বৈঠক হতে পারে। সেখানে জেলার শিল্পমহলের প্রতিনিধিদেরও ডাকা হতে পারে। ইতিমধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্য- ভাণ্ডার তৈরি হয়েছে জেলায়। ওই তালিকা ‘লিড’ ব্যাঙ্ককেও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

জেলার ‘লিড’ ব্যাঙ্ক ম্যানেজার শুভঙ্কর মানছেন, ‘‘পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্য-সম্বলিত তালিকা পেয়েছি।’’ আর জেলার ওসি (শিল্প) সিদ্ধার্থ বলেন, ‘‘লিড ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিল্পমহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা হবে। কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।’’ প্রশাসন সূত্রে খবর, চূড়ান্ত পরিকল্পনা করার আগে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে চান অনেকে। কারণ, পরিযায়ীদের মধ্যে কারা ফের ভিন্ রাজ্যে কাজে যাবেন, কারা এখানে থেকে যাবেন তা স্পষ্ট নয়।

পরিযায়ীদের একাংশও এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। মেদিনীপুর গ্রামীণের বাসিন্দা, মুম্বই ফেরত এক জরিশিল্পী বলেন, ‘‘কী করব এখনও ঠিক করিনি। পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে দেড়- দু’মাস পরে ঠিক করব।’’ পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমলও বলেন, ‘‘পরিযায়ী শ্রমিকদের কেউ কাজে ফিরে যাবেন। কেউ এখানে থেকে যাবেন। সবদিক দেখেই পদক্ষেপ করা হবে।’’ জেলাশাসকের সংযোজন, ‘‘ইতিমধ্যে পরিযায়ী শ্রমিক সম্পর্কিত তথ্য নির্ভর তালিকা তৈরি করে রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের নির্দেশ মতো জেলায় পদক্ষেপ হবে।’’
প্রাথমিক ভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের একশো দিনের প্রকল্পে কাজ দেওয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু তাতে অনেকেই আগ্রহ দেখাননি। ফলে, দক্ষতা অনুয়ায়ী কাজ দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের মতে, ভিন্ রাজ্যে যাঁরা কাজে গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই দক্ষ শ্রমিক। ফলে, তাঁদের জেলায় কাজের ব্যবস্থা হলে ভালই হবে। উৎপাদিত পণ্যের মানও বাড়বে। জেলা প্রশাসনের তৈরি তথ্য-ভাণ্ডার অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রায় ৫৪ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ফিরেছেন। এর প্রায় ২৮ হাজার, অর্থাৎ ৫১ শতাংশ স্বর্ণশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এঁদের কেউ সোনার কারিগর, কেউ সোনার ব্যবসা করেন। নির্মাণশ্রমিক রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার (১১ শতাংশ), দিনমজুর প্রায় ৫ হাজার (৯ শতাংশ), বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেন প্রায় ৫ হাজার (৯ শতাংশ), দর্জি প্রায় ৩ হাজার (৬ শতাংশ), জরিশিল্পী প্রায় ৩ হাজার (৬ শতাংশ), কাঠমিস্ত্রি প্রায় ২ হাজার (৪ শতাংশ), হোটেলকর্মী প্রায় ২ হাজার (৪ শতাংশ)। অনেকে মনে করছেন, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে এখানে স্বর্ণশিল্পী, জরিশিল্পীদের কাজে লাগানো যেতে পারে।
জেলা প্রশাসনের এক সূত্র জানাচ্ছে, জেলার শিল্পমহলের কেউ কিছু করতে উৎসাহী কি না খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকও বলেন, ‘‘পরিযায়ী শ্রমিকদের একটা বড় অংশই জেমস অ্যান্ড জুয়েলারির কাজে যুক্ত। ফলে, এখানে যদি কোনও উদ্যোগপতি ওই সংক্রান্ত প্রকল্প করেন, তাহলে তাঁর দক্ষ শ্রমিক পেতে সমস্যা হবে না।’’ পরিযায়ীদের কাজ দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিল্প) তুষার সিংলার সঙ্গেও একপ্রস্থ কথা হয়েছে জেলার চেম্বার অব কমার্সের। পশ্চিম মেদিনীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক চন্দন বসু বলেন, ‘‘ঘরে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের রোজগারের বন্দোবস্ত করতে প্রশাসন কিছু ভাবনাচিন্তা করছে। আমরা জানিয়েছি, আমরা সব রকমভাবে সহযোগিতা করব।’’

Advertisement

চন্দনও মানছেন, ‘‘শ্রমিকদের অনেকেই জেমস অ্যান্ড জুয়েলারির কাজ করেন। এখানে এই শিল্পের কোনও ক্লাস্টার করা যায় কি না দেখা হচ্ছে।’’ শিল্পমহলের সঙ্গে কথা বলে ইতিবাচক কিছু হবে বলেই আশা জেলা প্রশাসনের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement