—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ঘাটাল ও চন্দ্রকোনা কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ের পথে কাঁটা হতে পারে অন্তর্ঘাত। এমন আশঙ্কা ছিলই। তা কতটা সত্যি হতে পারে ভোট মিটতে তার ময়না-তদন্তে নামল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট দুই কেন্দ্রে দলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর মাথা ও তাঁর অনুগামীদের আচরণ কেমন ছিল, বিরোধী দলের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না— খোঁজ চলছে সব কিছুরই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর ও তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থার কর্মীরা কথা বলছেন বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে।
ঘাটাল মহকুমার তিন বিধানসভার মধ্যে ঘাটাল ও চন্দ্রকোনা নিয়ে এ বার শুরু থেকেই মাথাব্যথা ছিল তৃণমূলের। ঘাটাল এমনিতেই বিজেপির দখলে ছিল। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হলেও এই দুই কেন্দ্রে দলের কোন্দলে রাশ টানা যায়নি। ঘাটালে টিকিট না পেয়ে প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর দোলই প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। টিকিট পাননি চন্দ্রকোনার বিদায়ী বিধায়ক অরূপ ধাড়াও। তিনিও ক্ষুব্ধ ছিলেন। তৃণমূলের সবর্ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খড়্গপুরের বৈঠকে শঙ্করকে ডেকে আলাদা করে কথা বলেন। কথা বলেন চন্দ্রকোনার অরূপের সঙ্গেও। যদিও তার পরেও ওই দুই নেতা ও তাঁদের অনুগামীদের ভোটের প্রচারে দেখা যায়নি।
ঘাটাল বিধানসভায় ভোট পড়েছে ৮৬.৪৬ শতাংশ। গত লোকসভা ভোট তৃণমূল ওই কেন্দ্র থেকে হাজার ছয়েক ভোটে এগিয়ে ছিল। পঞ্চায়েত ও পুর ভোটেও জয় এসেছিল তৃণমূলের। এর মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হয়েছে। যার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কাজ শুরু হওয়াকেই সামনে রেখে এগিয়েছে তৃণমূল। অন্য দিকে, চন্দ্রকোনায় ভোট পড়েছে ৯২.৮৯ শতাংশ। গত লোকসভা ভোটে চন্দ্রকোনা বিধানসভা থেকে ৭২০০ ভোটে এগিয়েছিল তৃণমূল। পঞ্চায়েতেও এই এলাকায় ভাল ফল করেছিল তৃণমূল। এছাড়া সংখ্যালঘু ভোট বড় ফ্যাক্টর এই কেন্দ্রে। এই সব নানা কারণে এই দুই কেন্দ্রে দিনের শেষে তৃণমূলের দিকেই পাল্লা ভারী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে সবটাই নির্ভর করছে অন্তর্ঘাত কতটা হয়েছে, আদৌও হয়েছে কি না— তার উপরে।
তৃণমূলের এক সূত্রের খবর, ভোটের দিন ঘাটালে শঙ্কর এবং চন্দ্রকোনায় অরূপ গোষ্ঠীর ভূমিকার খুঁটিনাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। নেতারা বাড়িতে থাকলেও অনুগামী-সমর্থকরা কোন দিকে ছিল, তাও দেখা হচ্ছে বলে খবর। বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর নেতাদের যে অঞ্চলে বেশি প্রভাব, সেখানে ভোটের দিন কী হয়েছে তার খোঁজ চলছে। বিক্ষুব্ধ নেতা ও তাঁর অনুগামীরা ভোটের দিন দলের প্রার্থী বা তাঁর প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, দেখা হচ্ছে সেটাও। ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী সর্দার এবং চন্দ্রকোনার সূযর্কান্ত দোলই বলছেন, “ভোট ভাল হয়েছে। ফল আমাদের পক্ষেই থাকবে।’’ একইসঙ্গে দুই তৃণমূল প্রার্থীরই সংযোজন, “ভোটের দিন দলের নেতাদের ভূমিকা কী ছিল, উচ্চ নেতৃত্ব সবই জানেন।’’
শঙ্কর ও অরূপ দু’জনেই অবশ্য বলছেন, ‘‘আমরা দলেই আছি। ভোটের দিনও দলের পাশেই ছিলাম।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে