Transfer Order Halted

ভোটের আগে প্রাথমিকে বদলি স্থগিত

জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমান দাবি করেন,"ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থেই এই নির্দেশ।

আনন্দ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৬
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে তার আগেই বিধানসভা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির আবেদন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ। এই বিষয়ে সংসদের তরফে মঙ্গলবার জেলার সব অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

একই নির্দেশিকায় সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, বিদ্যালয় চত্বর ও স্কুলের শৌচাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পড়ুয়াদের মিড-মিল খাওয়ানো যথাযথভাবে করতে হবে, কোথাও যাতে কোনও অভিযোগ না আসে। এছাড়া যে সমস্ত বিদ্যালয় সিসি ক্যামেরা এবং স্মার্ট ক্লাস রুম রয়েছে, সেই সব যন্ত্রপাতি চালু রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথাও নির্দেশে রয়েছে। অর্থাৎ, বিধানসভা ভোটের আগে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্র থেকে যাতে কোনও অভিযোগ না আসে বা বিরোধীরা কোনও খুঁত না বের করতে পারে, সেটাই সরকার নিশ্চিত করতে চাইছে বলে অনুমান।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো ও পরিচ্ছন্নতা ঠিক রাখা এবং মিড-ডে মিল যথাযথ খাওয়ানোর জন্য শিক্ষা দফতর থেকে বিদ্যালয়গুলিকে প্রয়োজনীয় টাকা না দেওয়া হলে কী করে কাজ হবে?

বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক সৌমিত্র পট্টনায়েকের অভিযোগ, ‘‘বিদ্যালয়গুলির পরিচ্ছন্নতা, চক-ডাস্টার, খাতা, আলো-পাখার বিদ্যুৎ বিল এবং বিভিন্ন মেরামতি সংক্রান্ত কাজের খরচ জোগাতে 'কম্পোজিট গ্রান্ট' দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু ২০২৪-২৫ আর্থিক বর্ষে গ্রান্ট ৫০ শতাংশ বকেয়া রয়েছে। চলতি ২০২৫- ২০২৬ আর্থিক বর্ষে ৭৫ শতাংশ টাকা বকেয়া রয়েছে। ফলে সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজ করতে গুরুতর সমস্যা হচ্ছে। টাকা না দিয়ে সংসদের এই নির্দেশিকা অনেকটা সোনার পাথর বাটির মতো।’’ তাঁর কথায়, ‘‘সরকার পরিকল্পনা-বহির্ভূত বিভিন্ন খাতে দেদার অর্থ বরাদ্দ করলেও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করছে না।’’

জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমান দাবি করেন,"ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থেই এই নির্দেশ। এর সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের যোগ নেই। আর ‘কম্পোজ়িট গ্রান্ট’-এর টাকা রাজ্য সরকার দিলেও কেন্দ্র সরকার তাঁর অংশ দিচ্ছে না।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘প্রাথমিকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলি আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়টি ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগে করা হয়েছে। তবে এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।’’

নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অশোক দাস বলেন, "পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে না। তারপরেও বিধানসভার ভোটের আগে অভিভাবক-সহ সাধারণ মানুষের মন জয়ের জন্য এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষিকারা সমস্যায় পড়বেন।’’

এ ছাড়াও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে সংসদের তরফে শিক্ষকদের দলির আবেদন জমা না নেওয়ার নির্দেশ কার্যত নজিরবিহীন বলে মনে করছে একাধিক শিক্ষক সংগঠন। তবে সংসদ সূত্রের খবর, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বর্তমানে ৩২৬৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ হাজার। জেলার বিভিন্ন শহর, বিভিন্ন সড়ক সংলগ্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক পর্যাপ্ত থাকলেও প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষক কম। নির্বাচন এলেই বিভিন্ন কারণেই শিক্ষকদের বদলির আবেদন বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। তাই সংসদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি অশোক দাসের অভিযোগ, ‘‘সংসদ এই সিদ্ধান্ত কেন নিল, আমাদের জানানো হয়নি। তারা শিক্ষক সংগঠনগুলিরও মতামতও গ্রহণ করেনি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন