তৃণমূলের দ্বন্দ্বে মারধর নারায়ণগড়ে

 দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে প্রকাশ্যে এসেছিল তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল। এ বার হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে বেরনো মিছিল শেষে ফের উত্তেজনা ছড়াল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০১৭ ০১:৩৮
Share:

দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে প্রকাশ্যে এসেছিল তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল। এ বার হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে বেরনো মিছিল শেষে ফের উত্তেজনা ছড়াল।

Advertisement

শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগড়ের বীরবিরা গ্রামে। ওই দিন স্থানীয় নেতা কিঙ্কর চক্রবর্তীদের নেতৃত্বে মিছিল করেছিল তৃণমূলের একটি গোষ্ঠী। গত মঙ্গলবার রাতে ওই গ্রামেই দক্ষিণ বাড়গোপালে তৃণমূলের একটি কার্যালয়ে রাতে খাওয়াদাওয়ার সময় যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বিমল ভুঁইয়ার অনুগামীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তার প্রতিবাদেই ছিল মিছিল।

মিছিল থেকে বিমল ভুঁইয়াদের গ্রেফতারের দাবি তোলেন কিঙ্কররা। রাতে বীরবিরা বাজারের কাছে মিছিল শেষ হতেই অশান্তি বাধে। মিছিলের পরে বিমল ভুঁইয়াদের অনুগামীদের বাড়িতে হামলা চালানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তখন এক সিভিক ভলেন্টিয়ারকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামলায়।

Advertisement

দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলে জেরবার নারায়ণগড়। দলের ব্লক সভাপতি মিহির চন্দের অনুগামীদের সঙ্গে জেলা কর্মাধ্যক্ষ সূর্য অট্টের অনুগামীদের বিরোধের জেরে বারবারই অশান্তি হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে জেলা নেতা প্রদ্যোত ঘোষের জয়ের পরে কোন্দল চরমে পৌঁছয়। সূর্যের সঙ্গে বিরোধ প্রদ্যোতের।

বীরবিরা গ্রামেও মিহির চন্দের ঘনিষ্ঠ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি গণেশ মাইতির সঙ্গে সূর্য অনুগামী যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বিমল ভুঁইয়ার সংঘাত রয়েছে। মঙ্গলবার গণেশ অনুগামী কিঙ্কর তিনটি বুথকে নিয়ে বৈঠক শেষে দলীয় কার্যালয়েই নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। তখন বিমল অনুগামীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। থানায় বিমল-সহ ৭জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। শনিবার সন্ধ্যায় সেই ঘটনার প্রতিবাদে বেরনো মিছিল শেষে ফের অশান্তি বাধে।

বিমল বলেন, “রাতের অন্ধকারে মকরামপুর থেকে দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে সন্ত্রাস চালায় ওরা। এক সিভিক ভলেন্টিয়ারকেও মারধর করে। এ সব গণেশ মাইতি, কিঙ্কর চক্রবর্তীদের নির্দেশে হয়েছে।” যদিও গণেশের বক্তব্য, “বিমল ভুঁইয়ারা রাতে বিজেপি, সকালে তৃণমূল পরিচয় দিয়ে এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। সামান্য হাতাহাতি হয়েছে।”

জেলা কর্মাধ্যক্ষ সূর্য অট্ট অবশ্য বলেন, “প্রদ্যোত ঘোষ, মিহির চন্দদের প্রশ্রয়ে কিঙ্কর মাইতিরা এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছেন। তাই সাধারণ মানুষ বিমল ভুঁইয়ার পাশে রয়েছে। তা সহ্য করতে না পেরে কিঙ্কর চক্রবর্তীরা এ সব করছে।” তবে বিধায়ক প্রদ্যোতবাবুর কথায়, “দলের কার্যালয়ে ঢুকে কর্মীদের মারধর বরদাস্ত হবে না। বিমল ভুঁইয়াদের নামে যে অভিযোগ হয়েছে তা নায্য। আমরা পুলিশকে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement