ডেঙ্গিই হয়েছে তো, নিশ্চিত হতে সপ্তাহ পার

গায়ে জ্বর নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছিলেন মেদিনীপুর শহরের এক বাসিন্দা। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট আসে ছ’দিন পরে! তারপর জানা যায়, ওই ব্যক্তি ডেঙ্গিতে আক্রান্ত।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ অগস্ট ২০১৬ ০০:৪০
Share:

গায়ে জ্বর নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছিলেন মেদিনীপুর শহরের এক বাসিন্দা। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট আসে ছ’দিন পরে! তারপর জানা যায়, ওই ব্যক্তি ডেঙ্গিতে আক্রান্ত।

Advertisement

ক্ষীরপাইয়ের এক যুবক ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে এখন মেদিনীপুর মেডিক্যালে ভর্তি রয়েছেন। শয্যা জোটেনি। ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। তাঁরও রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য গিয়েছে। তবে রিপোর্ট কবে আসবে জানা নেই। অথচ মশাবাহিত এই রোগে সামান্য দেরিও ডেকে আনতে পারে বিপদ। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা শুরু করা এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। কিন্তু সরকারি ভাবে পশ্চিম মেদিনীপুরে একমাত্র যেখানে ডেঙ্গি নির্ণায়ক পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে সেই মেদিনীপুর মেডিক্যালে রক্ত পরীক্ষা করতে প্রায় এক সপ্তাহ লেগে যাচ্ছে। রোগীর এক পরিজনের কথায়, “রোগ নির্ণয় হতেই যদি সপ্তাহ পেরিয়ে যায়, তাহলে চিকিৎসা শুরু হবে কবে!”

পশ্চিম মেদিনীপুরে ডেঙ্গির প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। সরকারি ভাবে জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১২৮। বেসরকারি মতে, সংখ্যাটা আরও বেশি। মেডিক্যালের এক সূত্রে খবর, ডেঙ্গির নিশ্চিত পরীক্ষা দু’টি। ১) ম্যাক অ্যালাইজা, ২) এনএস-১ অ্যালাইজা। জেলার এক স্বাস্থ্য কর্তা জানাচ্ছেন, অ্যালাইজা পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা যায়, শরীরে ডেঙ্গির ভাইরাস বাসা বেঁধেছে কি না। বাঁধলে তা কতখানি। রক্তের প্লেটলেট কতটা নেমেছে তাও জানা যায়। এনএস- ১ অ্যালাইজা পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি জানা যায়। ম্যাক অ্যালাইজা পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি জানা যায়। ওই স্বাস্থ্য কর্তার কথায়, “রক্তের প্লেটলেট বেশি কমলেই বিপদ। সাধারণত যা ২ লক্ষ থাকে তা ডেঙ্গির প্রকোপে কমে ৭০-৮০ হাজার হয়ে যায়।’’

Advertisement

এনএস-১ অ্যালাইজা পরীক্ষা হয় জ্বরের দু’-তিন দিন পর। আর ম্যাক অ্যালাইজা পরীক্ষা হয় জ্বরের পাঁচ দিন পর। তারপর রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় সমস্যা বাড়ছে। জেলার স্বাস্থ্য কর্তারা অবশ্য সমস্যার কথা মানতে নারাজ। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, “দু’- তিনদিন একটু সমস্যা হয়েছিল কিট ছিল না বলে। এখন আর খুব একটা দেরি হচ্ছে না।” হাসপাতাল সুপার তন্ময়কান্তি পাঁজার যুক্তি, “ডেঙ্গির পরীক্ষা করতে ছ’ঘণ্টা লাগে। ফলে, তেমন দেরির কোনও ব্যাপার নেই।” বাস্তবের ছবিটা কিন্তু অন্য। সমস্যা মেনে মেদিনীপুর মেডিক্যালের এক কর্তা বলে, “এখানে এই পরীক্ষা হয় নিখরচায়। একটি কিটে প্রায় ৯০ জনের পরীক্ষা হয়। ফলে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক নমুনা না এলে পরীক্ষা হয় না। তাই একটু সমস্যা হয়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement