জেসিবি মেশিনে কাজ চলছে। নিজস্ব চিত্র
সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে ছাড় মিলেছে লকডাউনে। শুরু হয়েছে একশো দিনের কাজ। সেই প্রকল্পে পুকুর কাটার কাজ করতে শনিবার এগরা বাতাসপুর গ্রামে কোদাল-ঝুড়ি নিয়ে জড়ো হয়েছিলেন জব কার্ড হোল্ডারেরা। কিন্তু কাজ না করেই ফিরতে হল তাঁদের। অভিযোগ, একশো দিনে কাজে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত জেসিবি মেশিন দিয়ে পুকুর কাটার কাজ করছে। যদিও পঞ্চায়েতের দাবি, মেশিন দিয়ে পুকুরের মাটি কাটার কাজ হয়নি। একটি গাছের গুঁড়ি-শিকড় মাটি থেকে তোলার জন্য মেশিন ব্যবহার করা হয়েছিল।
এগরা-১ ব্লকের বরিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাতাসপুর গ্রামে সম্প্রতি পুকুর কাটার কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় পঞ্চায়েতের নির্দেশ গ্রামের বেশ কয়েকজন জব কার্ড হোল্ডার সেই কাজ করেন। শনিবারও পুকুরে কাটার কাজ করতে আসেন কার্ড হোল্ডারেরা। অভিযোগ, সকালে কিছুটা সময় পুকুরে মাটি কাটার কাজ করার পর তাঁদের কাজ করতে বন্ধ করতে বলা হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়। এ দিন সেখানে আর তাঁদের কাজ করতে হবে না। রবিবার অন্য জায়গায় কাজে তাঁদের ডাকা হবে। কিন্তু পরে সেখানে জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটা কাটা হয় বলে অভিযোগ।
শ্রমিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাজ বন্ধের খবর পেয়ে গ্রামের স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদ করেন। তাতে কিছু সময়ের জন্য মেশিনে মাটি কাটা বন্ধ থাকে। পরে ফের মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলে বলে অভিযোগ তাঁদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, ‘‘সকালে ঝুড়ি-কোদাল দিয়ে কাজ করার ছবি তোলা হয়। তার পরে আমাদের কাজ না করার কথা বলা হয়। মেশিনে মাটি কাটা শুরু হয়।’’
এ নিয়ে কোথাও লিখিত অভিযোগ দায়ের না হলেও শ্রমিকদের প্রশ্ন, তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত কীভাবে শ্রমিকদের কাজ ‘কেড়ে’ নিয়ে মেশিন দিয়ে একশো দিনের কাজ করছে! এ দিন মাটি কাটার কাজে আসা চৈতন্য দাস বলেন, ‘‘গরিব মানুষ একশো দিনের কাজ পেয়ে কিছুটা আর্থিক ভাবে আশ্বস্ত হয়েছিল। এখন যদি এমন হয়, কীভাবে সংসার চালাব জানি না।’’
শ্রমিকদের অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন বরিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রানুরানি বেরা। তিনি বলেন, ‘‘মেশিন দিয়ে পুকুরের মাটি কাটা হচ্ছিল না। আসলে যেখানে পুকুর কাটার কাজ চলছে, সেখানে গাছের গুঁড়ি থাকায় শ্রমিকদের কাজের সমস্যা হচ্ছিল। ওই গাছের গুঁড়ি তুলতে জেসিবি মেশিন ব্যবহার করা হয়। তবে আপাতত পুকুর কাটার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।’’