অচলাবস্থা শিক্ষক শিক্ষণ কলেজে, পড়ুয়াদের ক্ষোভ

কলেজের অধ্যক্ষ অবসর নিয়েছেন প্রায় দেড় মাস আগে। এরপর সরকারি নিয়ম মেনে একজন প্রবীণ শিক্ষক দিবসকুমার মণ্ডলকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ওই শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব না নেওয়ায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একমাত্র সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণ কেন্দ্র তমলুকের কেলোমাল গভর্নমেন্ট প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-এ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:২৪
Share:

কলেজের অধ্যক্ষ অবসর নিয়েছেন প্রায় দেড় মাস আগে। এরপর সরকারি নিয়ম মেনে একজন প্রবীণ শিক্ষক দিবসকুমার মণ্ডলকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ওই শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব না নেওয়ায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একমাত্র সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণ কেন্দ্র তমলুকের কেলোমাল গভর্নমেন্ট প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-এ।

Advertisement

গত ৩১ অক্টোবর অবসর গ্রহণ করেন কলেজের অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষের পদে কেউ দায়িত্বে না থাকায় কলেজের তিন শিক্ষক ও দু’জন অশিক্ষক কর্মী গত নভেম্বর মাসের বেতন এখনও পাননি বলে অভিযোগ। এ ছাড়াও প্রশিক্ষণ নিতে আসা ১০ জন কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের হাজিরা সংক্রান্ত নথি সংশ্লিষ্ট চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে জমা দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বেতন পাওয়া নিয়ে সমস্যার আশঙ্কা করছেন ওই শিক্ষকরা। ব্যাহত হচ্ছে কলেজের বাকি প্রশিক্ষণপ্রার্থীদের পড়াশোনাও। প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণ কেন্দ্রের এই অচলাবস্থা নিয়ে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) সুজিতকুমার মাইতি বলেন, ‘‘আমি সবে দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব।’’

দু’বছরের প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র অনিমেশ মণ্ডল, সুকেশ রাউল, সন্দীপ যাশুদের অভিযোগ, ‘‘কলেজের অধ্যক্ষ গত ৩১ অক্টোবর অবসর গ্রহণ করেছেন। তারপর থেকেই কলেজে পঠন-পাঠন ব্যাহত হচ্ছে। কলেজে প্রতিদিন পাঁচটি করে ক্লাস হওয়ার কথা কিন্তু এখন একটি বা দুটি ক্লাস হচ্ছে।’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘শিক্ষকের অভাবে ক্লাস ঠিকমতো হচ্ছে না। তার উপর শিক্ষকদের একাংশ কলেজে নিয়মিতভাবে ক্লাস নিতে না আসায় আমাদের পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হতে বসেছে।’’

Advertisement

অনিমেশ, সুকেশদের আরও অভিযোগ, ‘‘কলেজে ছাত্রাবাস থাকলেও সেখানে থাকার ব্যবস্থা নেই। ফলে আমাদের মতো দূরবর্তী এলাকার ছাত্রদের আশেপাশের এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। এ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও সুরাহা হয়নি।’’ কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬০ সালে চালু হওয়া এই শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দু’বছরের কোর্সে ৫০টি আসন রয়েছে। বাকি ৪৫ টি আসনে মেধার ভিত্তিতে সাধারণ পড়ুয়ারা ভর্তি হতে পারে। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ মিলিয়ে বর্তমানে কলেজে ১০০ জন পড়ুয়া রয়েছে। অন্য দিকে, কলেজে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ ছাড়াও পাঁচ জন শিক্ষক থাকার কথা। যদিও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র তিন জন শিক্ষক। এ ছাড়াও কলেজে ৮ জন অশিক্ষক কর্মী থাকার কথা। কিন্তু রয়েছেন মাত্র ২ জন শিক্ষক কর্মী। ফলে কলেজের স্বাভাবিক পঠন-পাঠন ব্হত হচ্ছে। কলেজের সমস্যার কথা স্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘‘কলেজের অধ্যক্ষ অবসর গ্রহণের পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই শিক্ষক দায়িত্ব গ্রহণ না করায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’’ কলেজের শিক্ষক দিবসবাবুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি।

মেলার সূচনা। আনন্দপুর জনস্বাস্থ্য ও কৃষি মেলা শুরু হল। বৃহস্পতিবার মেলার উদ্বোধন হয়। প্রগতিশীল গ্রামীণ চিকিত্‌সক সংগঠনের উদ্যোগে এই মেলা। মেলার সম্পাদক দিলীপ পান জানান, মেলা উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। থাকছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজনও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement