গ্রাহকদের হাতে পাকড়াও অর্থলগ্নি সংস্থার তিন কর্মী

চুপিসাড়ে অফিস থেকে আসবাব সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আমানতকারীদের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়লেন বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থার তিন কর্মী। মঙ্গলবার রাতে বেলদার বিদ্যাসাগর পল্লির বেসিল ইন্টারন্যাশনাল নামে ওই অর্থলগ্নি সংস্থার অফিসে আমানতকারীরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে ওই লগ্নি সংস্থার তিন কর্মী সুবল দাস, অসীম দাস ও স্বপন রাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৪ ০০:০১
Share:

চুপিসাড়ে অফিস থেকে আসবাব সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আমানতকারীদের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়লেন বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থার তিন কর্মী। মঙ্গলবার রাতে বেলদার বিদ্যাসাগর পল্লির বেসিল ইন্টারন্যাশনাল নামে ওই অর্থলগ্নি সংস্থার অফিসে আমানতকারীরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে ওই লগ্নি সংস্থার তিন কর্মী সুবল দাস, অসীম দাস ও স্বপন রাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পনেরো আগে ‘অ্যাপেলাইন’ নামে একটি সংস্থা তাঁদের ভেষজ পণ্যের ব্যবসার জন্য বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু করে। সেই সময় ব্যাঙ্কের তুলনায় বেশি সুদে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেয় তাঁরা। পরবর্তীকালে ওই সংস্থাই ‘বেসিল ইন্টারন্যাশনাল’ হিসেবে নাম বদল করে ব্যবসার পরিধি বাড়ায়। ওই সংস্থার এজেন্টরা কাঁথি, এগরা, হলদিয়া, বেলদা-সহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের থেকে টাকা সংগ্রহ করতে থাকেন। কিন্তু সারদা কাণ্ডের পর থেকে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। তবে এতদিন ওই সংস্থার বেলদার অফিস খোলাই ছিল। ইদানীং অভিযোগ ওঠে, রাতের অন্ধকারে সংস্থার কর্মীরা অফিস থেকে নথি ও আসবাব পত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

একইভাবে এ দিনও অফিস থেকে আসবাব সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই সংস্থার এই তিন কর্মী। সেই সময়েই গ্রাহকদের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে যান তাঁরা। গ্রাহকেরা তাঁদের ঘিরে ধরে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। বেলদার বাসিন্দা পূর্ণচন্দ্র দোলই বলেন, “আমি বিভিন্ন মালপত্র লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ করি। কিন্তু এই সংস্থা পাঁচ বছর ছ’মাসে টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার লোভ দেখিয়েছিল। না বুঝেই সেই ফাঁদে পা দিয়েছিলাম। এখনও টাকা ফেরত পাচ্ছি না। এদিকে ওঁরা পালানোর ছক কষছেন।” এ দিন স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তথা ওই সংস্থার বেলদা শাখার অন্যতম কর্তা কল্যাণ ত্রিপাঠীর বাড়িতেও আমানতকারীরাও বিক্ষোভ দেখায়।” এ দিন বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অলোক রায়। তিনি বলেন, “এই সংস্থার কল্যাণ ত্রিপাঠীর মতো লোকেরাই স্থানীয় মানুষকে ভুল বুঝিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। তাই তাঁদের গ্রেফতারের দাবিতে সর্বহারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিত।” যদিও পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত কল্যাণ ত্রিপাঠী পলাতক। বুধবার কল্যাণবাবুর মোবাইলও বন্ধ ছিল। তবে ওই সংস্থার সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের জড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ওই প্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলা পরিষদ কর্মাধ্যক্ষ সূর্য অট্ট বলেন, “বেসিল বাম আমল থেকে চলছে। সেখানে রোজগারের আশায় অনেক বাম ও আমাদের দলের নেতারাও কাজ করেছেন, আমি সেটা জানিও। তবে যেখানে মানুষের স্বার্থ জড়িয়ে সেখানে পুলিশ কোনও রাজনৈতিক দল না দেখে ব্যবস্থা নিক।”

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement