ছেলেকে খুন, যাবজ্জীবন সৎ মায়ের

সাত বছরের শিশু পুত্রকে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা হল সৎ মায়ের। মঙ্গলবার কাঁথি আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা (ফাস্ট কোর্ট) বিচারক সুকুমার রায় শঙ্করী জানাকে এই সাজা দেন। মামলার সরকারি আইনজীবী কুহকরঞ্জন মণ্ডল জানান, খেজুরি থানার বাঁশগোড়া গ্রামের দীপক জানার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০০৫ সালে দীপকবাবু শঙ্করী জানাকে বিয়ে করেন। দীপকবাবুর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর দীপ্তেশ ও তৃপ্তেশ নামে দু’টি ছেলে রয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০১৫ ০১:০৮
Share:

সাত বছরের শিশু পুত্রকে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা হল সৎ মায়ের। মঙ্গলবার কাঁথি আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা (ফাস্ট কোর্ট) বিচারক সুকুমার রায় শঙ্করী জানাকে এই সাজা দেন। মামলার সরকারি আইনজীবী কুহকরঞ্জন মণ্ডল জানান, খেজুরি থানার বাঁশগোড়া গ্রামের দীপক জানার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০০৫ সালে দীপকবাবু শঙ্করী জানাকে বিয়ে করেন। দীপকবাবুর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর দীপ্তেশ ও তৃপ্তেশ নামে দু’টি ছেলে রয়েছে। কর্মসূত্রে দীপকবাবু কলকাতায় থাকেন। বাঁশগোড়ায় বাড়ির একটি ঘরে দুই নাতিকে নিয়ে থাকতেন দীপকবাবুর মা সুশীলাদেবী।

Advertisement

অভিযোগ, দীপকবাবুর আগের পক্ষের দুই ছেলেকে সহ্য করতে পারতেন না শঙ্করী। ২০০৬ সালের ১ ডিসেম্বর বিকেলে দীপকবাবুর বছর সাতেক বয়সের ছোট ছেলে তৃপ্তেশ খেলতে বেড়িয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পরও তৃপ্তেশ বাড়ি না ফেরায় বৃদ্ধা ঠাকুমা প্রতিবেশীদের সাহায্য নিয়ে তৃপ্তেশের খোঁজে বেরোন। যদিও এই ঘটনায় শঙ্করীর কোনও হেলদোল না দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। প্রতিবেশীরা শঙ্করীর ঘরে তল্লাশি করতে চাইলে তিনি বাধা দেন। জোর করে তাঁর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে শঙ্করীদেবীর ঘরে খাটের তলা থেকে তৃপ্তেশের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রতিবেশীদের চাপের মুখে শঙ্করী তৃপ্তেশকে শ্বাসরোধ করে খুন করার কথা স্বীকার করে।

খেজুরি থানার পুলিশ শঙ্করীকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে খুন ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু হয়। সেই মামলায় শঙ্করীকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ছ’মাস কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement