জেলে দেখা করতে বাধা, ক্ষুব্ধ অধীর

সবং কাণ্ডে ধৃত ছাত্র পরিষদ কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে এসেও ফিরে গেলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শনিবার সকালে মেদিনীপুর সংশোধনাগারে যান অধীরবাবু।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০১৫ ০০:৩৯
Share:

সবং কাণ্ডে ধৃত ছাত্র পরিষদ কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে এসেও ফিরে গেলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শনিবার সকালে মেদিনীপুর সংশোধনাগারে যান অধীরবাবু। সঙ্গে ছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি বিকাশ ভুঁইয়া। যদিও জেল কর্তৃপক্ষ অনুমতি না দেওয়ায় দলের ছেলেদের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে তাঁরা ফিরে যান। জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন অধীরবাবু।

Advertisement

অধীরবাবুকে ধৃত ছাত্র পরিষদ কর্মীদের সঙ্গে কেন দেখা করতে দেওয়া হল না? মেদিনীপুরের জেল সুপার স্বরূপ মণ্ডল বলেন, “এ ভাবে বিচারাধীন আবাসিকদের সঙ্গে দেখা করা যায় না। উনি এসেছিলেন। তবে জেল গেট থেকেই চলে গিয়েছেন। আগে থেকে জানিয়ে উনি জেল পরিদর্শন করতে পারেন।” অধীরবাবুর অবশ্য দাবি, সাংসদ হিসেবে তিনি দেখা করতেই পারেন। তাঁর কথায়, “কোনও নিয়ম জানা নেই। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখা করতেই পারি।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘এই জেলখানাগুলোয় বসে বড় বড় অপরাধীরা বাইরে তাদের কারবার চালাতে পারছে। সেখানে নিরাপত্তা নেই। আমরা সকলের সামনে দেখা করব, কী কথা বলব সকলে জানবে, শুনবে, আমি তো গোপনে কিছু কথা বলব না।” ক্ষুব্ধ অধীরবাবু বলেন, “গতকাল প্রদেশ অফিস থেকে মেল করা হয়েছিল। আজকে চিঠিতে জানিয়েছি। আইজি- কে (কারা) জানিয়েছি। দলের ছেলে। জেলখানায় আছে। দেখা করতে পারব না আমরা?”

শনিবার দুপুরে মেদিনীপুর জেলের সামনে পৌঁছন অধীরবাবু। শুরুতে অধীরবাবুর সঙ্গে দেখা করেন জেলের চিফ ডিসিপ্লিন অফিসার অসীম আচার্য। অসীমবাবু জানিয়ে দেন, তিনি জেলের মধ্যে যেতে পারেন। সুপারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তবে আবাসিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। অধীরবাবু অবশ্য অসীমবাবুকে জানিয়ে দেন, “আপনাদের দয়ায় দেখা করতে আসিনি। আইন- অধিকারে পাই বলেই দেখা করতে এসেছি। দেখা করার সম্মান দেওয়া হলে যাব। না হলে যাব না।” পরে অধীরবাবুর সঙ্গে দেখা করেন জেলের সিকিউরিটি অফিসার গৌতম রায়। গৌতমবাবু জানান, আপনি কালকে আসতে পারেন। জেল পরিদর্শন করতে পারেন। আমরা যা বলার আইন মেনেই বলছি।

Advertisement

গৌতমবাবুর কথা শুনে নিজের অসন্তোষ চেপে রাখেননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। অধীরবাবু বলেন, “আমাকে আইন দেখাবেন না। জেলখানাতে আমি বহু বছর কাটিয়েছি। আমি পরিদর্শন করতে আসিনি। দলের ছেলেদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। আপনারা আমাদের অধিকার দেবেন না। এটা অন্যায় করছেন।” শনিবার সকাল থেকেই জেলের সামনে বাড়তি পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) অংশুমান সাহা, এসডিপিও (খড়্গপুর) সন্তোষ মণ্ডল, ডেপুটি পুলিশ সুপার শ্যামল মণ্ডল, সৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। সবংয়ে ছাত্র খুনের ঘটনায় চারজন ছাত্র পরিষদ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে অনুপম আদক এখন হাওড়া জেলে রয়েছে। বাকি তিনজন সৌমেন গঙ্গোপাধ্যায়, পল্টু ওঝা এবং সুদীপ পাত্র মেদিনীপুর জেলে রয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্য, “ব্রিটিশ আমলে এ জিনিস ছিল না। কতগুলো ছেলের সঙ্গে একজন সাংসদের দেখা করার অধিকার নেই। আমি কিন্তু এই জেলের কর্তৃপক্ষকে, আইজি- কে কোর্টে নিয়ে যাবোই। এটা আমার অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে। আমি কিন্তু এটা নিয়ে হাইকোর্ট যাবই। আর আমি যা বলি তা করিই।”

গত ৭ অগস্ট সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয় চত্বরে সিপি কর্মী কৃষ্ণপ্রসাদ জানাকে খুনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় চারজন সিপি কর্মী ও তিন়জন টিএমসিপি কর্মী
গ্রেফতার হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement