ডাক্তারবাবু নেই, বিশ্বাস হচ্ছে না কসবাগোলার

রাতে কসবাগোলা গ্রামে পাঁচটা বাড়িতে চুরি হয়েছিল। তাই দু’টোর পর থেকে রাতে জেগেই ছিলেন অনেক গ্রামবাসী। ভোর চারটে নাগাদ তাঁরা ঘুমোতে যাওয়ার সময়ই খবর পৌঁছয় গ্রামে। ডাক্তারবাবু আর নেই। নেই পঞ্চায়েত প্রধানের দুই ছেলে আর স্ত্রী।

Advertisement

অমিত কর মহাপাত্র

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০০:০৮
Share:

শোকার্ত পরিজনরা। নিজস্ব চিত্র।

রাতে কসবাগোলা গ্রামে পাঁচটা বাড়িতে চুরি হয়েছিল। তাই দু’টোর পর থেকে রাতে জেগেই ছিলেন অনেক গ্রামবাসী। ভোর চারটে নাগাদ তাঁরা ঘুমোতে যাওয়ার সময়ই খবর পৌঁছয় গ্রামে। ডাক্তারবাবু আর নেই। নেই পঞ্চায়েত প্রধানের দুই ছেলে আর স্ত্রী। চলে গিয়েছেন ওই গাড়ির চালক, যে ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। বিশ্বাস করতে চায়নি গোটা গ্রাম। একের পর এক ফোনে কান্নার রোল ততক্ষণে বুঝিয়ে দিয়েছে খবরটা সত্যি।

Advertisement

কসবাগোলা থেকে চার কিলোমিটার দূরে অরুয়া গ্রাম, সেখান থেকে ভোরেই ছুটে এসেছেন শিক্ষক অমল চন্দ। বললেন, “ডাক্তারবাবু দিনরাত এক করে ছুটতেন আমাদের সমস্যায়। আর তারই এমন হল, বিশ্বাস হচ্ছে না!’’ ব্যবসায়ী ইলিয়াস আলি খান, স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মুস্তাক আলির কথায়, ‘‘বিনামূল্যে বা কম টাকায় ওষুধ আর কে দেবে? বিপদে আপদে দিন রাত রোগীর পাশে কে থাকবে? রোগীদের ওড়িশায় কে নিয়ে যাবে? ডাক্তারবাবু যে আশেপাশের গ্রামের মানুষের কাছে কী ছিলেন তা এবার বোঝা যাবে।’’ যাকে নিয়ে এত কথা সেই সাজ্জাদ হোসেন স্থানীয় হাতুড়ে চিকিৎসক। তিনি বছর দু’য়েক আগে কেনা নিজের শখের গাড়ি অবলীলায় দিয়ে দিতেন রোগীর পরিবারকে ওড়িশায় চিকিৎসা করাতে যাওয়ার জন্য। তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বিবি জ্ঞান হারাচ্ছেন বারবার। বলেন, “মানুষটা জলে ডুবে গাড়ির মধ্যে কি যন্ত্রণাটাই না পেল।’’

পাঁচরোল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের শেখ গফফর কাজীর দুই ছেলে ও স্ত্রীর মৃত্যুও যেন পরিবারকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না শেখ গফফর। তবু বলেন, ‘‘এখন অনেক দায়িত্ব। রবিবার সকালে সাতজনের শেষকৃত্য গোর দিতে হবে। তার জন্য অনেক প্রস্তুতি বাকি।’’ গাড়ি চালক সেরাজুলের বাবা সর্দার খান বলেন, “ছেলে দু’বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছে। কোনওদিন এতটা রাস্তায় গাড়ি চালায়নি। হয়তো ক্লান্তির খেসারত জীবন দিয়েই দিতে হল।”

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement