নোটিস পাঠিয়ে একদিনের মধ্যে ‘নকল ফলক’ সরিয়ে দেওয়ার কিংবা লেখা মুছে দেওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিডিও। ঠেলায় পড়ে তা কার্যকর করল তৃণমূল। গোড়ায় লেখা মুছে দেওয়া হয়েছিল। পরে নকল ফলক সরিয়েও দেওয়া হয়। তৃণমূলকে তাহলে নির্দেশ মানতে হল? খড়্গপুরের প্রার্থী তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি দীনেন রায়ের জবাব, “আমি কিছু জানি না! যারা ফলক রেখেছিল তারাই হয়তো সরিয়েছে!”
বৃহস্পতিবার সকালে মেদিনীপুর সদর ব্লকের সুকান্তপল্লী ও তার আশপাশের এলাকায় একাধিক ফলক দেখতে পান স্থানীয়রা। সদর ব্লকের এই এলাকায় খড়্গপুর বিধানসভার অন্তর্গত। স্থানীয়রা দেখেন, ফলকে সাদার উপর নীল রঙে লেখা হয়েছে। যে সব কাজের উল্লেখ রয়েছে সেগুলো এখনও হয়নি। শুধু প্রকল্প মঞ্জুর হয়েছে। এলাকাবাসীর থেকে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সিপিএম নেতা সোমনাথ চন্দ মেদিনীপুরের (সদর) ঋত্বিক হাজরার কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। তারপর বিডিও নোটিস পাঠান তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা খড়্গপুরের তৃণমূল প্রার্থী দীনেনবাবুকে। গোটা ঘটনায় শাসক দল অস্বস্তিতে পড়ে। প্রশাসনের বক্তব্য, ফলকে প্রকল্পের মেমো নম্বর উল্লেখ ছিল। বিডিও শব্দটিও লেখা ছিল। এমন ফলক বসানো অনুচিত। অভিযোগের ভিত্তিতে যা পদক্ষেপ করার করা হয়। যে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছিল, সেই রাজনৈতিক দলের জেলা সভাপতির কাছে নোটিস পাঠানো হয়।
শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা দেখেন, ওই নকল ফলকগুলো আর নেই। কে বা কারা সরিয়ে দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানাচ্ছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফলকের লেখাগুলো ফের সাদা রঙ দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছিল। পরে ফলকগুলোই সরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সিপিএম নেতা সোমনাথ চন্দের দাবি, “এখন নির্বাচন কমিশনের নজরদারি রয়েছে। তাই বোধহয় সরকারি নির্দেশ মানতে দেরি করেনি তৃণমূল। তড়িঘড়িই ফলকগুলো ওরা সরিয়ে নিয়েছে।” তাঁর কটাক্ষ, “এ ভাবে নকল ফলক বসিয়ে আর কি হবে! মানুষ যা বোঝার বুঝে নিচ্ছেন! যা সব প্রকাশ্যে আসছে এরপর আর ওরা মুখ দেখাবে কী করে!”