ডিজিটাল রেশন কার্ড না পাওয়ার অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েতে এসে বিক্ষোভ দেখিয়ে কার্ড বিলি করাই বন্ধ করে দিল তৃণমূল। দলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের নেতৃত্বে মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে পটাশপুর-১ ব্লকের চিস্তিপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন বিডিও রণজিৎ হালদার।
পঞ্চায়েত ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬ জানুয়ারি থেকে ওই পঞ্চায়েতে খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের ডিজিটাল রেশন কার্ড বিলি করা শুরু হয়। এ দিন ধনকর গ্রামের বাসিন্দারা কার্ড নেওয়ার সময় মধ্য পালপাড়া উত্তর বুথ থেকে শ’দুয়েক গ্রামবাসীকে নিয়ে পঞ্চায়েতে অফিসে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলের ভরত মেইকাপ। বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে যায় কার্ড বিলি। এই পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে আসেন বিডিও। ভরতবাবু বলেন, “২১ টি সবুজ ও ৩৮২ টি সাদা ফর্ম পূরণ করে দিয়েছেন এই বুথের মানুষ। দল থেকেই সেই ফর্ম বিলি করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬ শতাংশের নামে কার্ড এসেছে। এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনোও হাত আছে। তা না হলে এই বুথেই শুধুমাত্র এই সমস্যা হবে কেন।” বিক্ষোভকারীদের একাংশের মতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে এই ঘটনা। পঞ্চায়েত প্রধান বীথি পন্ডা বলেন, “প্রকৃত প্রাপকদের নাম বাদ যাওয়ায় ক্ষোভ যুক্তিসঙ্গত। এ বিষয়ে পঞ্চায়েতের কোনোও ভূমিকা নেই।”
প্রশাসন সূত্রে বলা হচ্ছে, গ্রামবাসীরা ফর্ম পূরণ করার পর তা জমা দিয়েছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিসে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্ত করার জন্য সেই ফর্মগুলি নিয়ে যায় সিভিক পুলিশ। বিডিও অফিসে তারা তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর সেখানে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করিয়ে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় খাদ্য নিয়ামকের দফতরে। এত ব্যাপকভাবে নাম বাদ গেলেই তা সকলের নজরে পড়ার কথা। প্রশাসনের তরফে কোথাও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তৃণমূলের ব্লক সহ সভাপতি দেবব্রত পন্ডা অবশ্য বলেন, “বিষয়টির মধ্যে কোথাও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই।’’