নকলে বাধা, প্রহৃত অতিথি শিক্ষক

শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির দৌরাত্ম্য চলছেই। নকলে বাধা দেওয়ায় এ বার অতিথি শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে। সোমবার সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ের এই ঘটনায় জখম হয়েছেন অতিথি শিক্ষক গোপাল মণ্ডল। কলেজের সাধারণ সম্পাদক নন্দন মান্না-সহ চারজনের নামে সবং থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০১৪ ১০:০৫
Share:

শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির দৌরাত্ম্য চলছেই। নকলে বাধা দেওয়ায় এ বার অতিথি শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে। সোমবার সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ের এই ঘটনায় জখম হয়েছেন অতিথি শিক্ষক গোপাল মণ্ডল। কলেজের সাধারণ সম্পাদক নন্দন মান্না-সহ চারজনের নামে সবং থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন। কলেজের অধ্যক্ষ কানাই পড়িয়া বলেন, “ঘটনার সময় কলেজে ছিলাম না। তবে ঘটনাটি শুনেছি। পরে বিস্তারিত জেনে পদক্ষেপ নেব।” পুলিশ জানিয়েছে তদন্ত চলছে।

Advertisement

কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ছিল বি এ পার্ট টু-এর সংস্কৃত পরীক্ষার দিন। সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ে পরীক্ষার সিট পড়েছে ময়না কলেজের পরীক্ষার্থীদের। পরীক্ষা চলাকালীন নজরদারির সময় এক পরীক্ষাথীকে নকলে বাধা দেন অতিথি শিক্ষক গোপাল মণ্ডল। তিনি ওই পরীক্ষার্থীর খাতা কেড়ে নেন। এই কথা কানে যেতেই ছুটে আসে কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নন্দন মান্না-সহ আরও কয়েকজন। পরীক্ষার্থীর খাতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রথমে সে গোপালবাবুকে বলে। কিন্তু গোপালবাবু রাজি হননি। কলেজের কর্মীদের হস্তক্ষেপে তখনকার মতো পিছু হটে যায় নন্দনরা। পরীক্ষার পর গোপালবাবু খাতা নিয়ে অফিসে গিয়ে জমা করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে অধ্যাপকদের বসার ঘরে যাওয়ার পথে কয়েকজন তাঁকে ছাত্র সংসদের কার্যালয়ে ঢুকিয়ে নেয়। গোপালবাবুর দাবি, তখন ঘরের বাইরে ছিল নন্দন। গোপালবাবুর অভিযোগ, এর পরেই তাঁকে সেখানে আটকে রেখে মারধর করা হয়।

পদার্থবিদ্যার অতিথি শিক্ষক হিসেবে সদ্য সবং কলেজে যোগ দিয়েছেন গোপালবাবু। আইআইটি থেকে এমএসসি উত্তীর্ণ গোপালবাবু বলেন, “আমি নন্দনকে জানিয়েছিলাম যে ছাত্র নকল করেছে তার খাতা ফেরত দেওয়া অসম্ভব। তাই হয়তো নন্দন-সহ জনা পনেরো ছাত্র আমাকে এভাবে মারল। ভবানী ভট্টাচার্য নামে এক মহিলা কর্মী এসে আমাকে বাঁচান।” এরপর নন্দন মান্না, কার্তিক জানা, অনুপম বেরা-সহ ৪ জনের নামে সবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন গোপালবাবু। তবে সবং কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নন্দন মান্নার কথায়, “পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষাথীর কান্নার কারণ গোপাল স্যারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। মারধরের আমি জড়িত নই। ছাত্র সংসদের কেউ জড়িত রয়েছে কি না জানি না।”

Advertisement

কলেজ সূত্রে খবর, কংগ্রেসের ‘দুর্গ’ সবংয়ের এই কলেজটিতে বরাবরই ছাত্র পরিষদের দাপট রয়েছে। গত ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও এই কলেজের ক্ষমতা ধরে রেখেছে ছাত্র পরিষদই। শিক্ষকদের অভিযোগ, কলেজে ছাত্র পরিষদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছে। এ বছর পিংলা ও ময়না কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্র করা হয়েছে সবং কলেজকে। নিয়ম অনুযায়ী সবং কলেজের ছাত্ররা এই কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এখন ঢুকতে পারে না। অথচ সেই বিধি না মেনেই ছাত্র সংসদের সদস্যদের নজরদারি চলছে পরীক্ষাকেন্দ্রে। আর তাতে বাধা দিতে গেলেই হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে অধ্যাপকদের। কলেজে শিক্ষকদের একাংশের দাবি, সবং ও ময়না কলেজের ছাত্রদের অনেক সময়ই পূর্ব পরিচয় থাকে। তাছাড়া দুই কলেজের ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে আপসের কারণেও এ দিনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement