সবং কাণ্ড

ফের পুলিশি তদন্তের পক্ষেই সওয়াল সরকারি কৌঁসুলির

পুলিশের তদন্ত একেবারে ঠিক পথে এগোচ্ছে বলে ফের দাবি করলেন সবং মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি) রাজকুমার দাস। তদন্তে কোনও ফাঁকফোঁকর নেই বোঝাতে গিয়ে বৃহস্পতিবার শুনানির সময় জেলা আদালতে তিনি বলেন, ‘‘শুধু সিবিআই কেন, আন্তর্জাতিক কোনও সংস্থাও যদি এই মামলার তদন্ত করে, তাহলে পুলিশের দেখানো পথেই এগোতে হবে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০১৫ ০১:১৭
Share:

পুলিশের তদন্ত একেবারে ঠিক পথে এগোচ্ছে বলে ফের দাবি করলেন সবং মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি) রাজকুমার দাস। তদন্তে কোনও ফাঁকফোঁকর নেই বোঝাতে গিয়ে বৃহস্পতিবার শুনানির সময় জেলা আদালতে তিনি বলেন, ‘‘শুধু সিবিআই কেন, আন্তর্জাতিক কোনও সংস্থাও যদি এই মামলার তদন্ত করে, তাহলে পুলিশের দেখানো পথেই এগোতে হবে। সেই পথ এড়িয়ে তদন্ত করা সম্ভব নয়।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘ভাগ্যিস সিসিটিভি ছিল। না হলে সবই ওরা (অভিযুক্ত পক্ষ) মামলা ঘুরিয়ে দিত!’’

Advertisement

সবং-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিতে ইতিমধ্যে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। এ দিন সে প্রসঙ্গে সরকারি আইনজীবীর মন্তব্য, ‘‘হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলে স্বাগত। এতে রাজ্যের কোনও আপত্তি থাকবে না।’’

বৃহস্পতিবার মেদিনীপুরের জেলা ও দায়রা বিচারক আশুতোষ কর-এর এজলাসে সবং মামলার দীর্ঘ শুনানি হয়। ধৃত তিন ছাত্র পরিষদ (সিপি) কর্মী সৌমেন গঙ্গোপাধ্যায়, সুদীপ পাত্র, অনুপম আদকের জামিনের আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই শুনানি। সৌমেন সবং কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক। সংসদটি ছাত্র পরিষদের (সিপি) দখলে। সৌমেনের অভিযোগের ভিত্তিতেই ছাত্র খুনের মামলাটি শুরু হয়। পরে অবশ্য তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ছাত্র খুনে অভিযুক্তও করা হয় সৌমেনকে। তিন জনেরই জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। এ দিন ৮ জন সিপি কর্মীর আগাম জামিনের আবেদন জানানো হয়েছিল। তাও খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

Advertisement

এ দিন আদালতে সৌমেনের আইনজীবী অলোক মণ্ডল বলেন, ‘‘সরকারপক্ষ সিবিআই তদন্তকে স্বাগত জানাচ্ছে। খুবই ভাল কথা। এই মামলায় সিবিআই তদন্ত হলে জেলা পুলিশ সুপার, সবং কলেজের অধ্যক্ষও জড়িয়ে যাবেন।’’ রাজকুমারবাবু পাল্টা বলেন, “আরও অনেকে জড়িয়ে যাবেন। একটু অপেক্ষা করতে হবে। স্‌প্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়ার পথ খোলা আছে।’’

গত ৭ অগস্ট সবং সজনীকান্ত কলেজ চত্বরে সিপি কর্মী কৃষ্ণপ্রসাদ জানাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন গ্রেফতার হয়েছেন। ৪ জন সিপি-র। ৩ জন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি)। পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে যে ২১ জনের নাম রয়েছে, তার মধ্যে ১৯ জনই সিপির। ধৃত সিপি কর্মী অনুপম আদক ইতিমধ্যে আদালতে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন। তা প্রত্যাহার করতে চেয়েও আর্জি জানিয়েছেন অনুপম। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের চাপের মুখেই তিনি আদালতে ওই জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়েছেন।

Advertisement

এ দিন সৌমেনদের জামিনের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে তাঁদের আইনজীবী অলোক মণ্ডল বলেন, ‘‘পুলিশের তদন্তই বলছে পল্টু ওঝা (ধৃত সিপি কর্মী) বাঁশ দিয়ে কৃষ্ণপ্রসাদ জানার মাথায় আঘাত করেন। আমি পল্টুর ব্যাপারে যাচ্ছি না। তবে পুলিশের তদন্ত থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে, সৌমেন-সুদীপ কৃষ্ণপ্রসাদকে মারেননি।’’ সরকারি আইনজীবীর পাল্টা বক্তব্য, ‘‘সিসিটিভি ফুটেজে সৌমেন-সুদীপকে লাঠি হাতে দেখা গিয়েছে। সৌমেনের নেতৃত্বে সিপি কর্মীরা ইউনিয়ন রুম থেকে বাঁশ বের করেন। সিপি কর্মীদের সিসিটিভি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দিতেও দেখা গিয়েছে। সৌমেনরা জামিন পেলে এই মামলার সাক্ষ্য নষ্ট হবে।’’

সৌমেনদের আইনজীবী অলোকবাবু এ দিন আদালতে প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আমি যতদূর জানি, ওই কলেজে ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। যে ফুটেজের কথা বলা হচ্ছে, তা ৩টির। বাকি ১৩টির ফুটেজ দেখা হচ্ছে না কেন?’’ সরকারি আইনজীবীর জবাব, ‘‘যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার সিসিটিভির ফুটেজই দেখা হয়েছে। কলেজের নারকেল গাছে সিসিটিভি আছে। সে দেখার কী দরকার? পুলিশ যেটা প্রয়োজন মনে করছে, সেটাই করেছে।’’ সিপি কর্মী অনুপমের আইনজীবী হরিসাধন ভট্টাচার্য এ দিনও অভিযোগ করেন, ‘‘রাজনৈতিক উদ্দেশে মামলা সাজিয়েছে পুলিশ। এই তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement