বিক্ষোভের জের, বর্ধিত ভর্তির ফি কিছুটা কমল খড়্গপুর কলেজে

তৃতীয় বর্ষে ভর্তির বর্ধিত ‘ফি’ প্রত্যাহারের দাবিতে গত শুক্রবার খড়্গপুর কলেজের টিচার ইন চার্জকে স্মারকলিপি দেয় ডিএসও। টিচার ইন চার্জ কলেজের অর্থ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার বৈঠকে বসেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৪৭
Share:

তৃতীয় বর্ষে ভর্তির বর্ধিত ‘ফি’ প্রত্যাহারের দাবিতে গত শুক্রবার খড়্গপুর কলেজের টিচার ইন চার্জকে স্মারকলিপি দেয় ডিএসও। টিচার ইন চার্জ কলেজের অর্থ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার বৈঠকে বসেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

গত এপ্রিলে পরিচালন সমিতির বৈঠকে তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়াদের ভর্তির ‘ফি’ এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে ব্যবহারের জন্য ‘ফি’ বাড়ানো হয়েছে। এ দিনের বৈঠকে বর্ধিত ফি পাঁচশো টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ বর্ধিত ফি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করায় দুপুর ১টা থেকে টিচার ইন চার্জের ঘরের সামনে অবস্থান করেন তৃতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা। বিকেল ৩টে পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ। যদিও তারপরে আন্দোলন উঠে যায়। কলেজের রয়াসন বিভাগের ছাত্র প্রীতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ যে পাঁচশো টাকা ‘ফি’ কমিয়েছেন সেটাই আপাতত মেনে নিয়েছি।’’ তাঁর দাবি, ‘‘সাধারণ পড়ুয়াদের আন্দোলনে রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলি যুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালানোয় পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হচ্ছিল। তাই আন্দোলন থেকে সরে এসেছি।” এ বিষয়ে কলেজের টিচার ইন চার্জ কৌশিক ঘোষ বলেন, “পড়ুয়াদের দাবি মেনে বর্ধিত ‘ফি’ এক হাজার টাকা থেকে কমিয়ে পাঁচশো টাকা করা হয়েছে।’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটা ঠিক অনেক পড়ুয়ার পক্ষে এই টাকা দেওয়া অসুবিধাজনক। তবে কলেজের উন্নয়নের স্বার্থে বাধ্য হয়ে এই টাকা নিতে হচ্ছে। পড়ুয়াদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলায় ওঁরা এ দিন ঘেরাও-আন্দোলন তুলে নিয়েছে।”

কলেজে ‘ফি’ বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)-র কোন্দল। সোমবার কলেজ চত্বরে টিএমসিপি-র কলেজ শাখার নামাঙ্কিত একটি পোস্টার পোস্টারে দাবি করা হয়েছিল, টিএমসিপি পরিচালিত কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতেই এক হাজার টাকা ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় পরিচালন সমিতি। যদিও পোস্টারের দায় অস্বীকার করে টিএমসিপি-র কলেজ শাখার বিদায়ী সভাপতি প্রদীপ নায়েক বলেন, “আগেই কলেজ কর্তৃপক্ষের ‘ফি’ বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছে সানি। সংগঠনের কোনও বিক্ষুব্ধ সদস্য এই ঘৃণ্য কাজ করলেও করতে পারে।” এ বিষয়ে কলেজের টিএমসিপি নেতা হায়দার আলির দাবি, “এপ্রিল মাসে অর্থ বিষয়ক কমিটির বৈঠকে এক হাজার টাকা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সানি দত্ত প্রতিবাদ করেনি।” যদিও টিএমসিপি-র জেলা সভাপতি রমাপ্রসাদ গিরির বক্তব্য, ‘‘বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব।’’

Advertisement

বাণিজ্য শাখার তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়াদের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে। বাণিজ্য শাখার পড়ুয়ারা অতিরিক্ত ফি দিয়েই ভর্তি হয়েছে। যদিও বর্ধিত ‘ফি’ প্রত্যাহারের দাবিতে সরব হয় তৃতীয় বর্ষের কলা ও বিজ্ঞান শাখার পড়ুয়ারা। সোমবার থেকে কলা ও বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। যদিও গত শুক্রবার কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, বর্ধিত ফি নিয়ে বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার সকালে কলেজের অর্থ সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বর্ধিত ফি ১ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে পাঁচশো টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন তৃতীয় বর্ষের বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা।

পদার্থবিদ্যা বিভাগের ছাত্র শুভব্রত রথ, বাংলা বিভাগের ছাত্রী শ্যামলী মাহাত বলেন, “সাধারণ পড়ুয়াদের মতামত না নিয়ে গত এপ্রিল মাসে পরিচালন সমিতির বৈঠকে কলেজ কর্তৃপক্ষ এককভাবে ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এক ধাক্কায় এই ১ হাজার টাকা সকল পড়ুয়ার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।’’ পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, এতদিন পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে কলেজে কোনও উন্নয়নের কাজ হয়নি। যদিও পরে আন্দোলন উঠে যায়। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাণিজ্য শাখার পড়ুয়াদের থেকে নেওয়া ফি-র অতিরিক্ত টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন, আজ, বুধবার থেকে তৃতীয় বর্ষের কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement