ইন্দিরা আবাস যোজনা

বিডিও-র ধমকে শুরু বাড়ির কাজ

এক দিকে পুলিশ ও বিডিওর ধমক, অন্য দিকে, সরকারি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি— জোড়া কৌশলেই কাজ হল। ইন্দিরা আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরি শুরু হল পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়। চন্দ্রকোনা-২ ব্লকে ইন্দিরা আবাসে প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে। কয়েকজনের নামে থানায় অভিযোগও করেছিল ব্লক প্রশাসন।

Advertisement

অভিজিৎ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:০৩
Share:

এক দিকে পুলিশ ও বিডিওর ধমক, অন্য দিকে, সরকারি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি— জোড়া কৌশলেই কাজ হল। ইন্দিরা আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরি শুরু হল পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়।

Advertisement

চন্দ্রকোনা-২ ব্লকে ইন্দিরা আবাসে প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে। কয়েকজনের নামে থানায় অভিযোগও করেছিল ব্লক প্রশাসন। কিন্তু প্রথমেই আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে উপভোক্তাদের বুঝিয়ে কাজ শুরুর জন্য সময় বেঁধে দেয় প্রশাসন। তার জেরেই গত আর্থিক বছরে বিলি হওয়া প্রথম কিস্তির টাকায় উপভোক্তারা বাড়ি তৈরি শুরু করলেন। বিডিও গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, “প্রাথমিক ভাবে ২৪ জন টাকা পেয়ে অন্য খাতে তা খরচ করে ফেলেন। তদন্তে সেই তথ্য জানার পরই মামলা করা হয়। উপভোক্তাদের থানায় এবং বিডিও অফিসে ডেকে বুঝিয়ে বাড়ি তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ না মানলে এফআইআর করার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়। তাতেই কাজ হয়েছে।”

চন্দ্রকোনা-২ ব্লক সূত্রের খবর, ২০১৩-’১৪ আর্থিক বছরে ব্লকে মোট ২৯৯ জন ইন্দিরা আবাস যোজনার সুবিধা পেয়েছিলেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারীদের গৃহ নির্মাণের জন্য এই প্রকল্পে টাকা দেওয়া হয়। প্রকল্পের নিয়ম হল, প্রথম কিস্তির টাকা খরচের যাবতীয় তথ্য বিডিও অফিসে জমা দিতে হবে। তারপরই সংশ্লিষ্ট উপভোক্তা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন। চন্দ্রকোনা-২ ব্লকে মোট ৬টি পঞ্চায়েতে ২০১৩-’১৪ আর্থিক বছরে ২৯৯ জনের মধ্যে সকলেই খরচের তথ্য জমা না দেওয়ায় শুরু হয় তদন্ত। তাতেই বিষয়টি ধরা পড়ে।

Advertisement

নিয়মমতো প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরে উপভোক্তারা ন’মাস সময় পান। তারপরই খরচের তথ্য জমা দিলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে যায়। আগে এই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ হত ৪৮,৫০০ টাকা। কিন্তু ২০১৩-’১৪ আর্থিক বছর থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। আগে দু’টি কিস্তিতে ২৪,২৫০ টাকা করে দেওয়া হত। এখন টাকার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তিন কিস্তিতে টাকা দেওয়া হচ্ছে। চন্দ্রকোনা ২ ব্লকের কম-বেশি সব পঞ্চায়েতেই একাধিক উপভোক্তা টাকা নিয়ে বাড়ি তৈরি না করে ওই টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করেছিলেন।

প্রাথমিক ভাবে গরমিলের তালিকায় ২০ জনের নাম পাওয়া গিয়েছিল। পরে তদন্তে আরও ১৪ জনের নাম উঠে এসেছে। চলতি আর্থিক বছরে যে সব উপভোক্তা টাকা পেয়ে কাজ শুরু করেননি, তাঁরা প্রশাসনিক তদন্তের কথা জানার পরই তড়িঘড়ি করে কাজ শুরুতে উদ্যোগী হয়েছেন। চন্দ্রকোনা থানার ওসি দয়াময় মাঝি বলেন, “আমরা চাই সরকারি টাকা ঠিকঠাক ভাবে ব্যবহার হোক। তাই বিডিও থানায় বিষয়টি জানানোর পরই উপভোক্তাদের থানায় ডেকে দ্রুত বাড়ি তৈরির জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাতে কাজ হয়েছে। আমরাও নজর রাখছি। আশা করছি, এ বার সবাই একে একে কাজ শুরু করবেন। ইতিমধ্যেই দশ জন কাজ শুরু করে দিয়েছেন।”

Advertisement

বান্দিপুর-২ পঞ্চায়েতের মৃত্যুঞ্জয় ভুঁইয়া, কুঁয়াপুরের সৌকত পালদের বলেন, “নেতাদের কথায় আমরা সব টাকা সংসারে খরচ করে ফেলেছিলাম। সাইকেল কিেনছি বা অন্যের জমি নিয়ে ভাগচাষ করেছি। এ বার বাড়ি তৈরি না করলে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে বলেছে। তাই ধার-দেনা করে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছি।”

একই সঙ্গে উপভোক্তাদের অনেকেই অভিযোগ করছেন, শাসকদল বা অন্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃত্বরা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তে একাধিক নেতার নামও জানা গিয়েছে। কিন্তু কোনও প্রমাণ না থাকায় অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। চন্দ্রকোনা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি হীরালাল ঘোষের অবশ্য আশ্বাস, “আমরা কিছু দলীয় কর্মী ও স্থানীয় বুথ স্তরের নেতাদের নাম জানতে পেরেছি। দলীয় ভাবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement