কৃতী ছাত্রী। ছবি: সোহম গুহ।
রাজ্যভিত্তিক প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া ছাত্রী সোহিনী সেনকে স্বর্ণপদক দিয়ে পুরস্কৃত করল প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন পর্ষদ। রবিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী হলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কাঁথির কিশোরনগর শিশু শিক্ষাসদনের ছাত্রী সোহিনীকে দুটি স্বর্ণপদক, অভিধান, ১২০০ টাকার একটি চেক-সহ শংসাপত্র দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৪০০ নম্বরের মধ্যে ৩৯০ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মধ্যে প্রথম হয়েছিল সোহিনী। এখন সে কিশোরনগর শচীন্দ্র শিক্ষাসদনের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। প্রাথমিক শিক্ষা জীবনের প্রথম বৃত্তি পরীক্ষার সাফল্যে খুশি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে বাড়ির পরিজনরাও। স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন মহাপাত্র জানান, স্কুলে প্রথম শ্রেণি থেকেই প্রথম হত সোহিনী। এমনকী স্কুলে সর্বাধিক দিন উপস্থিত থাকার জন্যও পুরস্কৃত হয়েছিল সে। নিরঞ্জনবাবু জানান, সোহিনীর এই সাফল্যে স্কুলের পক্ষ থেকেও তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
সোহিনী বৃত্তি পরীক্ষায় বাংলায় একশোতে একশো, ইংরাজিতে পঞ্চাশে পঞ্চাশ, অংকে ৯৮, ইতিহাস ভূগোলে একশোতে চুরানব্বই ও বিজ্ঞানে পঞ্চাশে আটচল্লিশ নম্বর পেয়েছে। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষাতেই স্বর্ণপদক পাওয়ায় খুশি সোহিনী নিজেও। সোহিনীর বাবা মদনমোহন সেন পেশায় রসায়নের শিক্ষক। লেখাপড়ার ব্যাপারে তার বাবা-ই তার অনুপ্রেরণা বলে জানিয়েছে সোহিনী। বাবা-মার প্রতি শ্রদ্ধায় দুটি স্বর্ণপদকের একটি মাকে ও অন্যটি সে বাবাকে উৎসর্গ করেছে।
সোহিনীর মা লিপিকাদেবী বলেন, “সোহিনী দিনে চার-পাঁচ ঘণ্টা পড়ে। কিন্তু যতটুকু পড়ে ততটাই মন দিয়ে পড়ে। ফলে সমস্যা হয় না।” তবে শুধু পড়ার বইয়েই মুখ গুঁজে থাকে না সোহিনী। পড়ার ফাঁকে তার সঙ্গী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটদের গল্প আর ভূতের গল্প। পাড়ার সমবয়সীদের সঙ্গে ব্যাডমিন্টন আর ক্রিকেট খেলাও নেশা ধোনি-ভক্ত সোহিনীর। সোহিনীর প্রিয় বন্ধু একমাত্র দিদি একাদশ শ্রেণির ছাত্রী চন্দ্রপ্রভা। বড় হয়ে অধ্যাপনা করতে চায় সোহিনী। মা লিপিকাদেবীর কথায়, “সোহিনী এখন খুব ছোট। অনেক পথ পেরোতে হবে ওকে। ও যা হতে চায় তাতে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।”