হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়ক অবরোধ। —নিজস্ব চিত্র।
কেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণ বিলের প্রতিবাদে ও কৃষকদের ফসলের লাভজনক দাম দেওয়া, সরকারিভাবে ন্যায্য মূল্যে ধান কেনা, বোরো চাষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বামপন্থী কৃষক সংগঠনগুলির সমর্থকরা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করলেন পূর্ব মেদিনীপুরে।
মঙ্গলবার জেলা সদর তমলুক শহরের হাসপাতাল মোড়ে হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়ক ও তমলুক শ্রীরামপুর সড়কের সংযোগ স্থলে বাম কৃষক সংগঠনের সদস্য-সমর্থকরা সকাল ৯ টা থেকে অবরোধ শুরু করেন। বেলা ১১ টা পর্যন্ত অবরোধ চলে। সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস সিংহ, দলের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি, সিপিআই জেলা সম্পাদক অশোক দিন্দা, আরএসপি জেলা সম্পাদক অমৃত মাইতি, ফরওয়ার্ড ব্লক জেলা সম্পাদক গোপাল মাইতি ও এসইউসি জেলাসম্পাদকমণ্ডলী সদস্য নন্দ পাত্র প্রমুখ।
সভায় তাপসবাবু বলেন, ‘‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকার একের পর এক জনবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। আর এ রাজ্যের তৃণমূল পরিচালিত সরকারের মন্ত্রী থেকে দলের সাংসদরা নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। আর প্রথমে বিজেপি’ সরকারের বিরুদ্ধে নানা কথা বললেও এখন এরাজ্যের সরকার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছে।’’ এদিন সভায় বাম নেতারা রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা থেকে কৃষকদের আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন।
তমলুক শহরের হাসপাতাল মোড়ে ব্যস্ত হলদিয়া-মেচেদা সড়ক আটকে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে অবরোধের জেরে বাস, লরি, ট্যাক্সি সহ সমস্ত যানবাহন আটকে পড়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধের জেরে হয়রানির শিকার হন অফিসে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ। অবরোধে আটকে পড়া বাসযাত্রী মেচেদার বাসিন্দা শশধর জানা বলেন, ‘‘মহিষাদলে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলাম। কিন্তু এখানে এভাবে আটকে পড়তে হবে জানতাম না।’’ নন্দকুমার থেকে পাঁশকুড়ায় আত্মীয়বাড়িতে যাওয়া প্রৌ়ঢ়া শ্যামলী দাসের কথায়, ‘‘মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে বেরিয়েছিলাম। এখানে এসে রাস্তা বন্ধ হওয়ার কারণে বাস আটকে যাওয়ায় অসুবিধায় পড়ে গেলাম।’’
হয়রানির ফলে অবরোধ চলার মাঝপথে পুলিশ বাম নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু বাম নেতারা অবরোধ তোলায় রাজি হননি। উল্টে প্রকাশ্যে বাম নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দেন, পুলিশ তাঁদের অবরোধ তোলার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হবে। এসময় পুলিশের সামনেই অবরোধকারীরা স্লোগান দিতে থাকে। শেষমেশ বেলা ১১ টা নাগাদ অবরোধ ওঠে।
এ দিন সকালে মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন চারটি এলাকায় বিক্ষোভ-অবরোধ কর্মসূচি হয়। শহরের পাশ দিয়েই চলে গিয়েছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক। অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে বাস-লরি। নাকাল হন নিত্যযাত্রীরা। অমিয় রাণা, সীমা দোলুই প্রমুখ নিত্যযাত্রীর বক্তব্য, “এই গরমে এমন কর্মসূচি হলে মানুষের সমস্যা হবেই। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসের মধ্যে এক-দেড় ঘন্টা বসে থাকা অসম্ভব।’’