রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিবির। নিজস্ব চিত্র।
মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞান গবেষণায় উত্সাহ দিতে শিবির শুরু হল মেদিনীপুরের রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ে। কলেজের এই উদ্যোগে সহায়তা করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ। পাঁচদিনের শিবিরে একাদশ শ্রেণির যে দেড়শোজন ছাত্রছাত্রী যোগ দিয়েছে, তারা সকলেই মাধ্যমিকে নব্বই শতাংশের আশপাশে নম্বর পেয়েছে। শিবিরের কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক দিলীপ নন্দী বলেন, ‘‘ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহ তৈরি করার জন্যই এই শিবির। আমরা সকলেই চাই, ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিজ্ঞান গবেষণায় আরও আগ্রহ বাড়ুক, তারা বিজ্ঞান নিয়ে আরও বেশি চর্চা করুক।’’
শনিবার শিবিরের উদ্বোধনে ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের পরামর্শদাতা অমলেশ মুখোপাধ্যায়, অধ্যাপক ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা জয়শ্রী লাহা। শিবির চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক চিন্তার অভাব রয়েছে। বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীরই লক্ষ্য পড়াশোনা শেষে ভাল চাকরি। কিন্তু এতে মানবসম্পদের বিকাশ সম্ভব নয়। তার জন্য চাই মৌলিক গবেষণা। এক অধ্যাপকের কথায়, ‘‘চাকরির উদ্দেশ্য হল অর্থ উপার্জন। গবেষণাতেও কিন্তু বৃত্তি মেলে। তবু বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীকে গবেষণায় আগ্রহী করা যাচ্ছে না।’’ মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা জয়শ্রী লাহার অবশ্য আশা, এই শিবির ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞান চর্চায় উত্সাহ দেবে। শিবিরের কো-অর্ডিনেটর দিলীপবাবুও বলেন, “শিবিরে যারা যোগ দিয়েছে, আশা করি তারা বিজ্ঞান নিয়ে ভাববে।’’
এ দিন ‘ন্যানো সায়েন্স’-সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন অধ্যাপকেরা। ধ্রুবজ্যোতিবাবু যেমন বলছিলেন, ‘‘ন্যানোস্তরে পৌঁছলে বস্তুর ভৌতধর্ম, রাসায়নিক ধর্ম পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন সোনার রং গোলাপি হয়ে যায়। ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন অনেক কিছুই তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থা ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।’’ বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, গবেষণা মানেই কিছু যন্ত্রপাতি আর ধুঁকতে থাকা গবেষণাগার- এই ধারণা থেকে বেরোতে হবে। মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
মেদিনীপুরের রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সভাকক্ষেই এই বিজ্ঞান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। শিবিরে যোগ দেওয়া ছাত্রছাত্রীদের ল্যাবরেটরিতে নিয়ে গিয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাঁচ দিনের শিবিরে ভাটনগর পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনজন বিজ্ঞানীও আসবেন। শিবিরে ছিলেন শিক্ষক তথা শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেসের জেলা কো- অর্ডিনেটর মধুসূদন গাঁতাইত। মধুসূদনবাবুও বলেন, “বায়োটেকনোলজি, ন্যানো প্রযুক্তির মতো বিজ্ঞানের আধুনিক শাখাগুলোর প্রসার হচ্ছে। এমন শিবিরের মাধ্যমেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলা সম্ভব।’’