যুব সংসদ প্রতিযোগিতা। তমলুকে। — নিজস্ব চিত্র।
উত্তরবঙ্গের চা বাগান বন্ধ হওয়া থেকে নারী নির্যাতন বৃদ্ধি- যুব সংসদে উঠে এল রাজ্যের সাম্প্রতিক নানা বিষয়।
রাজ্যের পরিষদীয় দফতরের উদ্যোগে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে তিন দিন ব্যাপী জেলা যুব সংসদ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সোমবার। তমলুকের নিমতৌড়ি স্মৃতিসৌধে ওই প্রতিযোগিতায় যোগ দেবে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা। এ দিন প্রতিযোগিতায় বিধানসভার অধিবেশনের কায়দায় আলোচনাসভায় প্রথমে যোগ দিয়েছিল কাঁথির সরপাই মডেল ইনস্টিটিশনের ছাত্রীরা।
বিধানসভার আদলেই হাজির ছিলেন এক জন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় ছিল রাখী মণ্ডল। ছিল মন্ত্রীসভার সদস্যরাও। বিপক্ষে বিরোধী দলনেতা (রঞ্জন দাস) সহ বিরোধী দলের সদস্যরা। রীতি মেনে অধিবেশন শুরুর পরেই বিরোধী দলনেতা প্রশ্ন করে, উত্তরবঙ্গে একের পর এক চা বাগান বন্ধ হচ্ছে। চা বাগানের বহু শ্রমিক সেখানে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকের জন্য রাজ্য সরকার কি কোন ব্যবস্থা নিয়েছে ?
বিরোধী দলনেতার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলে, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যদি কোনও চা বাগান বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তিন মাসের মধ্যে সেই চা বাগানের শ্রমিকদের প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে এবং দু’টাকা কিলোগ্রাম দরে চাল দেওয়া হবে। এ ছাড়াও শ্রম দফতর থেকে প্রাপ্য সুবিধা দেওয়া হবে।’
ফের বিরোধী দলের এক সদস্য (অর্পিতা বেরা) প্রশ্ন তোলে, রাজ্যে এত বেকার যুবক-যুবতী রয়েছে। রাজ্যে ২৫টি শিল্প পার্কে প্রায় ৩ হাজার একর জমি ফাঁকা পড়ে রয়েছে কেন? উত্তরে শিল্পমন্ত্রী দাবি করেন, ‘ওই শিল্প পার্কের মধ্যে ১২টিতে ইতিমধ্যে হোসিয়ারি-সহ বস্ত্র শিল্প গড়া হবে বলে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এতে মোট প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। ৬ লক্ষের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’ অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোলাঘাটের বিধায়ক বিপ্লব রায়চৌধুরী। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্বে অধিবেশনে যোগ দেয় রামনগরের সাঁতরা কে এল হাইস্কুল। বিধানসভার অধিবেশনে হাজির হয় মুখ্যমন্ত্রী। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় কুমকুম নন্দ। আর বিপক্ষে বিরোধী দলনেত্রী সায়ণী সিংহ। শিল্পের পর এ বার উঠল শিক্ষার প্রসঙ্গ। শিক্ষার অধিকার চালু হওয়া সত্ত্বেও স্কুলগুলির বেহাল অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। জবাব দিতে উঠে শিক্ষা মন্ত্রী বলে, ‘আমরা সরকারে এসেছি মাত্র সাড়ে চার বছরের কিছু বেশি সময়। রাতারাতি বিগত ৩৪ বছরের জং ধরা খোলনলচে বদলে দেব এমন জাদুদণ্ড আমাদের হাতে নেই।’ মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘ইতিমধ্যে রাজ্যের হাইস্কুলগুলিতে ২৮ হাজার শিক্ষক ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬০০ শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।’’