হিজলি কলেজ

শিক্ষকদের তালাবন্দি করল টিএমসিপি

কলেজে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না, এই অভিযোগে শিক্ষকদের তালাবন্দি করে বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) সমর্থক পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার দুপুরে খড়্গপুরের হিজলি কলেজে টানা আড়াই ঘন্টা ওই ঘেরাও বিক্ষোভ চলে। আটকে পড়েন কলেজের তিন শিক্ষিকা ও এক শিক্ষক। শেষে টিএমসিপি-র পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। নিয়মিত ক্লাসের আশ্বাস দিলে ঘেরাও তুলে নেওয়া হয়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০১৫ ০০:৪৭
Share:

কলেজে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না, এই অভিযোগে শিক্ষকদের তালাবন্দি করে বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) সমর্থক পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার দুপুরে খড়্গপুরের হিজলি কলেজে টানা আড়াই ঘন্টা ওই ঘেরাও বিক্ষোভ চলে। আটকে পড়েন কলেজের তিন শিক্ষিকা ও এক শিক্ষক। শেষে টিএমসিপি-র পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। নিয়মিত ক্লাসের আশ্বাস দিলে ঘেরাও তুলে নেওয়া হয়।

Advertisement

খড়্গপুর শহরের অদূরে গোপালী অঞ্চলে এই কলেজে পঠনপাঠন নিম্নমানের বলে বারবার অভিযোগ উঠছে। এখন অধিকাংশ বিভাগ স্থায়ী শিক্ষক নেই। সম্প্রতি বাংলা, ভূগোল, অঙ্ক, রসায়ন বিভাগের স্থায়ী শিক্ষকেরা অন্যত্র চলে গিয়েছেন। কিছু দিন আগে অর্থনীতি বিভাগের স্থায়ী শিক্ষকও বদলি হয়ে গিয়েছেন। সব মিলিয়ে পাঁচটি স্থায়ী পদে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। অতিথি শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস নেওয়া চলছে। কিন্তু পড়ুয়াদের অভিযোগ, শিক্ষকদের একাংশ ইউজিসির নিয়ম মেনে কলেজে আসছেন না। কলেজে এলেও নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসে না গিয়ে শিক্ষকদের বসার ঘরে গল্প করছেন। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে কলেজের পঠনপাঠন।

এই অভিযোগেই এ দিন বেলা ১২টা নাগাদ শিক্ষকদের বসার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয় টিএমসিপি সমর্থক ছাত্ররা। ওই কলেজে ছাত্র সংসদেও ক্ষমতায় রয়েছে টিএমসিপি। বিক্ষোভের সময় ঘরে ছিলেন সমাজবিদ্যার আংশিক সময়ের শিক্ষিকা সুমিত্রা পাঁজা, বাংলার অতিথি শিক্ষিকা শর্মিষ্ঠা জানা, শিক্ষক সুদর্শন মাহাত-সহ চার জন ছিলেন। ঘেরাও চলাকালীন পরে শর্মিষ্ঠাদেবী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বন্দি হয়ে থাকা এক শিক্ষক বলছিলেন, “কলেজে শিক্ষকের অভাব দেখিয়ে আমাদের তালাবন্দি করা হয়েছিল। এটা ঠিক নয়। কারণ যাঁরা আটকে ছিলাম অধিকাংশ অস্থায়ী ও অতিথি শিক্ষক।’’

Advertisement

সমস্যা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাপসবাবু এসে আলোচনায় বসে জট কাটান। তিনি বলেন, “ছাত্রদের দাবিদাওয়া থাকতেই পারে। কিন্তু এই ঘেরাও আমি সমর্থন করি না। আসলে আমাদের কলেজে শিক্ষকের অভাব বাস্তব সমস্যা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়েছি। অতিথি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে। আমি নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাস হওয়ার আশ্বাস দিতে পড়ুয়ারা ঘেরাও থেকে সরে এসেছে।”

টিএমসিপি অবশ্য শিক্ষকদের তালাবন্দি করার কথা অস্বীকার করেছে। কলেজের টিএমসিপি ইউনিটের সভাপতি উমাশঙ্কর রায় বলেন, “আমাদের কেউ ওখানে বিক্ষোভ দেখাতে বা ঘেরাও করতে যায়নি। কলেজে অধিকাংশ শিক্ষক দেরি করে আসেন। তাই নিয়মিত ক্লাসের দাবি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’’ তবে এ দিন হিজলি কলেজে টিএমসিপি-র আচরণের প্রতিবাদ করেছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর খড়্গপুর কলেজের সদস্যরা। এবিভিপির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি স্বরূপকুমার মাইতি বলেন, “এ ভাবে শিক্ষকদের আটকে অত্যাচার চালানোর ঘটনা টিএমসিপির মতো ছাত্র সংগঠন একমাত্র করতে পারে। আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement